ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনে প্রতি বছর প্রায় ৪ বিলিয়ন পাউন্ডের সরকারি ভাতা ও আর্থিক সহায়তা অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। এসব ভাতা পাওয়ার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে না জানার কারণে হাজারো মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান।
সাদিক খান ঘোষণা করেছেন, লন্ডনের ১৯টি বরোতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর কাছে সরকারি আর্থিক সহায়তার সুযোগ পৌঁছে দিতে আগামী দুই বছরে ৫ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে আরও হাজারো পরিবারকে বিনামূল্যে ও স্বাধীন আর্থিক পরামর্শ দেওয়া হবে, যাতে তারা নিজেদের প্রাপ্য ভাতা ও সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন।
সিটি হলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত মেয়রের উদ্যোগে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি লন্ডনবাসীকে তাদের প্রাপ্য ১০৮ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি আর্থিক সহায়তা পেতে সহযোগিতা করা হয়েছে। নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে আরও প্রায় ২৯ হাজার পরিবারকে ১৮ মিলিয়ন পাউন্ডের আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
যেসব সরকারি ও স্থানীয় সহায়তা অনেক মানুষ দাবি করছেন না, তার মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট, পেনশন ক্রেডিট, কেয়ারার্স অ্যালাউন্স, চাইল্ড বেনিফিট, কাউন্সিল ট্যাক্স সাপোর্ট এবং পেনশনভোগীদের জন্য হাউজিং বেনিফিট। এ ছাড়া রয়েছে বিনামূল্যে স্কুলের খাবার, হেলদি স্টার্ট, পানির বিল ও ব্রডব্যান্ডে ছাড় এবং শীতকালে জ্বালানি বিলের জন্য ওয়ার্ম হোম ডিসকাউন্ট।
সাদিক খান বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়সংকট মোকাবিলায় লন্ডনবাসীকে সহযোগিতা করতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষকে তাদের প্রাপ্য ১০৮ মিলিয়ন পাউন্ডের আর্থিক সহায়তা পেতে সহযোগিতা করা হয়েছে। আরও বেশি নিম্ন আয়ের পরিবার যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, সে জন্য নতুন অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
লন্ডনের ডেপুটি মেয়র ফর কমিউনিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল জাস্টিস ডেবি উইকস-বার্নার্ড বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়সংকটের মধ্যেও অনেক লন্ডনবাসী এখনো তাদের জন্য উপলব্ধ আর্থিক সহায়তা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত অথবা এসব সহায়তা পাওয়ার সুযোগ গ্রহণ করতে পারছেন না।
এদিকে সামাজিক নীতি ও বিশ্লেষণভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পলিসি ইন প্র্যাকটিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যজুড়ে ৭০ লাখের বেশি পরিবার প্রায় ২৪ বিলিয়ন পাউন্ডের সরকারি সহায়তা দাবি করেনি। এর মধ্যে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট, কাউন্সিল ট্যাক্স সাপোর্ট এবং কেয়ারার্স অ্যালাউন্সে সবচেয়ে বেশি অর্থ অব্যবহৃত রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, সরকারি সহায়তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব, জটিল আবেদন প্রক্রিয়া এবং ভাতা গ্রহণ নিয়ে সামাজিক নেতিবাচক ধারণার কারণে অনেকে তাদের প্রাপ্য অর্থ দাবি করেন না। বিশেষ করে যারা কর্মরত, কিছু সঞ্চয় রয়েছে কিংবা সম্প্রতি পারিবারিক ও আর্থিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছেন, তারাও নিজেদের যোগ্যতা সম্পর্কে না জানার কারণে সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শীত মৌসুম সামনে রেখে লন্ডনের আরও বেশি এলাকায় এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারগুলোকে তাদের প্রাপ্য সরকারি সুবিধা সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে সহযোগিতা করা।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এমকে

