21.8 C
London
September 19, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকআমেরিকা

ভারতকে চাপে ফেলতে ১০০% শুল্কের বিলে ট্রাম্পের সই

ওয়াশিংটন থেকে নতুন করে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে রাশিয়া এবং রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ১৮ সেপ্টেম্বর ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ আইনে স্বাক্ষর করেছেন। নতুন আইনে রাশিয়ার পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ এবং রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। 
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারত বা চীনের ওপর স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়ে যায়নি। আইনটি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর এই শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়েছে। ফলে ভারতসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য এটি তাৎক্ষণিক শুল্ক আরোপের চেয়ে বড় ধরনের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইন অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের পণ্যের ওপর শূন্যের বেশি থেকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যেতে পারে। একইভাবে রাশিয়ার তেলবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তাকারী শীর্ষ পাঁচ দেশের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
ভারত এই ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য লক্ষ্য। দেশটি রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। চীনও রাশিয়ার জ্বালানির অন্যতম বড় ক্রেতা। ফলে নতুন মার্কিন আইনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর ওপরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর সুযোগ পেল।
আইনে রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিধানও রয়েছে। কংগ্রেসের Ways and Means Committee-এর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার পণ্যের ক্ষেত্রে এই শুল্ক আরোপের নির্দেশনা আইনের অংশ এবং এর মধ্যে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, ধনকুবের, পরিবারের সদস্য, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং রাশিয়ার কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজগুলোকেও নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
আইনটি শুধু রাশিয়াকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়নি। এতে ইরানের জ্বালানি ও অস্ত্র খাতের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ১৯৯৬ সালের ইরান স্যাঙ্কশনস অ্যাক্টের মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
নতুন আইনটি মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই পাস হয়েছে। ৭ আগস্ট সিনেটে বিলটি ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে অনুমোদন পায়। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে স্বাক্ষর করেন।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য দেশটির জ্বালানি আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে রাশিয়ার সক্ষমতা কমানো। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর মাধ্যমে মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টি করাই আইনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
নতুন মার্কিন আইন কার্যকর হওয়ার ফলে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য করা দেশগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক ঝুঁকি নতুন করে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার নিজস্ব পণ্যের ওপর সম্ভাব্য ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি আয়ের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে।
সূত্রঃ দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
এমকে

আরো পড়ুন

বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক চায় ভারতঃ প্রণয় ভার্মা

নিউজ ডেস্ক

গাজা যুদ্ধঃ মধ্যপ্রাচ্যে স্টারবাকস ও কোক বয়কটে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো

ট্রাম্পের দোষী সাব্যস্তঃ মার্কিন নির্বাচনে যে প্রভাব পড়বে