TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ভারতে বিক্ষোভের আগুনঃ মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মিছিল

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজধানী নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্ট অভিমুখে ১০ হাজারের বেশি মানুষের বিশাল বিক্ষোভ মিছিলে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। যুব-নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে পরিচিত আন্দোলনের কর্মীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতির বিচার এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করেন। এটিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনই হাজারো আন্দোলনকারী ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর এলাকা থেকে পার্লামেন্টের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দিতে থাকেন। তবে মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ বাহিনী তাদের বাধা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয় এবং লাঠিচার্জ চালানো হয়। যদিও দিল্লি পুলিশ বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভের অংশগ্রহণকারীরা জানান, সরকারের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েও মানুষকে আন্দোলনে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখা যায়নি। অনেকেই কয়েকটি স্টেশন আগে নেমে হেঁটে মিছিলে যোগ দেন। মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং শিশুদের নিয়ে পরিবারগুলো এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ। সম্প্রতি মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির পর পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনার মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে একাধিক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যা আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছে।

আন্দোলনের আরেকটি বড় কারণ হলো প্রবীণ সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করা। তিনি তিন সপ্তাহ ধরে অনশন করে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে আসছিলেন। তার হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় এবং সোমবারের বিক্ষোভে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।

ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে সরকার আন্দোলনের দুই প্রতিনিধিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে আলোচনার আমন্ত্রণ জানায়। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবির বিষয়ে সরকারকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং শুধু আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।

আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ‘ককরোচ’ নামের ব্যবহার। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যে কিছু বেকার তরুণকে ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। সেই মন্তব্যকে প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত করে আন্দোলনকারীরা নিজেদের পরিচয় হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নাম গ্রহণ করেন। প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা দিয়ে শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এটি একটি বৃহৎ গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগ, তরুণদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ, প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি এবং সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও কিছু বলিউড তারকাও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে মোদি সরকারের তৃতীয় মেয়াদে এই যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকে ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম বড় জনচ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

আরো পড়ুন

কানাডায় যেতে আগের তুলনায় ব্যাংকে দ্বিগুণ অর্থ দেখাতে হবে

ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা

মারা গেছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং