20.7 C
London
September 26, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

আইএলআর(ILR) ১৫ বছর করার প্রস্তাব নিয়ে ব্রিটেনের লেবার পার্টিতে প্রকাশ্য বিরোধ

ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদের অভিবাসন সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশ্য আপত্তি জানিয়েছেন কমিউনিটিজ সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার। বিশেষ করে বিদেশি কেয়ার কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের অধিকার বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবকে তিনি অন্যায্য বলে মন্তব্য করেছেন।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে অনেক অভিবাসী পাঁচ বছর পর আইএলআরের জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রস্তাবিত পরিবর্তনে কিছু অভিবাসীকে স্থায়ী বসবাসের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। রেনারের বক্তব্য, যারা ব্রিটেনের দক্ষতার ঘাটতি পূরণের জন্য দেশটিতে এসে দীর্ঘদিন কেয়ার খাতে কাজ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম পরিবর্তন করে নতুন বাধা তৈরি করা অন্যায্য।

রেনার বলেন, বিদেশি কেয়ার কর্মীদের ব্রিটেনে আসতে বলা হয়েছিল দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের দেখাশোনা করার জন্য। তারা সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজেদের জীবন ব্রিটেনে স্থানান্তর করেছেন। পরে নিয়ম পরিবর্তন করা হলে সেটিকে তিনি ‘গোলপোস্ট পরিবর্তন’ হিসেবে দেখছেন।

তিনি আরও বলেন, যারা দক্ষতার ঘাটতি পূরণের কারণে ব্রিটেনে এসেছেন এবং বছরের পর বছর মানুষের সেবা করেছেন, তাদের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। রেনার জানিয়েছেন, সরকারে ফিরে আসার পরও এ বিষয়ে তার অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি।

এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী রোববার লিভারপুলে শুরু হবে দলটির সম্মেলন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০০ জন লেবার এমপি ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সমালোচনা করে বিদেশি কেয়ার কর্মীদের জন্য ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় ট্রেড ইউনিয়নগুলোর একটি ইউনিসনও সম্মেলনের বাইরে বিক্ষোভ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বলে দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে। বিদেশি কেয়ার কর্মীদের আইএলআর সংক্রান্ত পরিবর্তন থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে এই প্রতিবাদ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

শাবানা মাহমুদের প্রস্তাবিত অভিবাসন সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য হলো ব্রিটেনকে অভিবাসীদের জন্য তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করা এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকার হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার ভিসা রুট চালু রাখার মাধ্যমে বিদেশি কেয়ার কর্মী নিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে বিদেশ থেকে কেয়ার কর্মী নিয়োগ সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গত বছর তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ইয়ভেট কুপার বিদেশ থেকে কেয়ার কর্মী নিয়োগ বন্ধের জন্য ভিসা নিয়মে পরিবর্তন আনেন। এর আগে কনজারভেটিভ সরকার কেয়ার কর্মীদের সঙ্গে পরিবারের নির্ভরশীল সদস্য আনার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।

এদিকে আইএলআর সংস্কার নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা হয়নি। শাবানা মাহমুদ চলতি সপ্তাহে হোম অ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটিকে জানিয়েছেন, সরকার খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক মানুষ তাদের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম প্রযোজ্য হবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। সরকার পরামর্শ প্রক্রিয়ায় পাওয়া মতামত যথাযথভাবে পর্যালোচনা করতে সময় নিয়েছে।

শাবানা মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে চায় যেখানে ব্রিটেনে কাজ করতে আসা মানুষের প্রতি দায়িত্ব, আগের সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাগুলোর স্বীকৃতি এবং ইতোমধ্যে ব্রিটেনে থাকা ও বিভিন্ন ব্যবস্থায় অর্থ প্রদানকারী মানুষের স্বার্থ—এই বিষয়গুলোর মধ্যে ভারসাম্য রাখা যায়।

অন্যদিকে অ্যাঞ্জেলা রেনারের প্রকাশ্য আপত্তি এবং প্রায় ১০০ লেবার এমপির সমর্থন দেখাচ্ছে যে বিদেশি কেয়ার কর্মীদের আইএলআর নিয়ে সরকারের প্রস্তাবটি দলের ভেতরেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে কেয়ার কর্মীদের জন্য কোনো ছাড় দেওয়া হবে কি না, কিংবা আইএলআরের নতুন সময়সীমা চূড়ান্তভাবে কত বছর হবে—তা এখনো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এমকে

আরো পড়ুন

মানবপাচারের শিকারদের সুরক্ষা কমিয়ে আইন ভঙ্গঃ যুক্তরাজ্য সরকারকে কঠোর বার্তা আদালতের

টাওয়ার হ্যামলেটে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক

কোভিড-১৯ বিধি না মানায় লন্ডনে ৯ পুলিশ কর্মকর্তার জরিমানা

নিউজ ডেস্ক