২০০৭ সালের আগস্ট মাসে ভিয়েতনামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন ইউক্রেনের এক বাবা ও ছেলে। তবে পথিমধ্যে বাংলাদেশে কয়েক ঘণ্টার যাত্রাবিরতি তাদের জীবনের অন্যতম বড় ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে পরিণত হয়। হোটেলে থাকা অবস্থায় একটি ‘ইয়েলো পেজেস’ বইয়ের সূত্র ধরে তারা বাংলাদেশেই বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজে পান। সেই সিদ্ধান্তের ফলেই নারায়ণগঞ্জের আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সুপার প্রোটেকটিভ শুজ (প্রাইভেট) লিমিটেড’, যা এখন বছরে প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলারের সামরিক বুট ও নিরাপত্তা জুতা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক লাভরিক আন্দ্রিতি জানান, বাংলাদেশে অবস্থানের সময় তার মনে প্রশ্ন জাগে—যে সুযোগের খোঁজে তারা ভিয়েতনামে যাচ্ছেন, তা যদি বাংলাদেশেই পাওয়া যায়, তাহলে গন্তব্য পরিবর্তন করা যায় না কেন? বাংলাদেশের ট্যানারি ও চামড়া শিল্প সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা থাকায় তিনি বাবাকে এখানেই ব্যবসা শুরুর প্রস্তাব দেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে এবং এখানে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ভালো সুযোগ আছে। তাহলে আমরা ভিয়েতনামে যাব কেন?”
এই ভাবনার মধ্যেই হোটেলে হাতে আসে একটি ‘ইয়েলো পেজেস’ বই। সেটি ঘাঁটতে গিয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) একটি বিজ্ঞাপন তাদের নজরে আসে। এরপর তারা বেপজার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন।
আন্দ্রিতির ভাষ্য, বেপজায় গিয়ে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পান তারা। সেই অভিজ্ঞতাই তাদের পরিকল্পনা বদলে দেয় এবং ভিয়েতনামের পরিবর্তে বাংলাদেশেই বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, “আমরা বেপজায় গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করি। তাদের ভালো লেগেছিল এবং তারা আমাদের পুরোপুরি সহযোগিতা করেছিলেন। এরপর আমরা ভিয়েতনাম না গিয়ে বাংলাদেশেই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিই। এই সিদ্ধান্তে আমরা খুশি।”
এরপর নারায়ণগঞ্জের আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় ‘সুপার প্রোটেকটিভ শুজ (প্রাইভেট) লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সামরিক বুট, নিরাপত্তা জুতা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত ফুটওয়্যার উৎপাদন করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে।
একটি আকস্মিক যাত্রাবিরতি থেকে শুরু হওয়া এই বিনিয়োগ আজ বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্যের গল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের চামড়া শিল্প, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।
সূত্রঃ ভোলজা
এম.কে

