18.8 C
London
September 29, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ফের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানঃ কেন্দ্রে হরমুজ ও পরমাণু ইস্যু

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও কূটনৈতিক যোগাযোগের উদ্যোগ জোরালো হয়েছে। কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। রয়টার্স ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এ উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান সাত দিনের যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। ওই প্রস্তাবের সংশোধিত রূপকে কেন্দ্র করেই নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান এর আগে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছিল।

আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ ও নৌ-অবরোধ শিথিল করলে তারা এক সপ্তাহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ পুনরায় চালুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই জলপথকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও তার প্রভাব পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং হরমুজসংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে জ্বালানি বাজারে ঝুঁকি বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরমাণু কর্মসূচিও সম্ভাব্য আলোচনার আরেকটি বড় বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য ছাড় চাচ্ছে। অন্যদিকে তেহরান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং জব্দ থাকা বিদেশি সম্পদ অবমুক্ত করার মতো বিষয়ে ছাড় চাচ্ছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে।

তবে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনো অনেক দূরে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছে। ইরানি পক্ষের অবস্থান হলো, সরাসরি বৈঠকের পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তাব ও অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো।

অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানও আলোচনার ক্ষেত্রে কঠোর। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে কাতারসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রাখার চেষ্টা করছে।

ফলে নতুন এই কূটনৈতিক উদ্যোগ তাৎক্ষণিক কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। হরমুজ প্রণালী, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, নৌ-অবরোধ এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত—এসব ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান কমানোই আলোচনার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এমকে

আরো পড়ুন

খামেনি হত্যায় উল্টো ফলের আশঙ্কাঃ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতার সতর্কবার্তা

হিজবুল্লাহতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা, মার্কিন সেনা অভিযুক্ত

কথা না শুনলে হার্ভার্ডে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধঃ মার্কিন প্রশাসন