মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে নতুন যুগের গবেষণা অভিযানে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সাফল্যের পর এবার মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। আর নাসার এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকল্পে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী লামীয়া আশরাফ মওলা।
লামীয়া আশরাফ মওলা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলসি কলেজের হুইটিন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের জ্যোতির্বিজ্ঞানী। মহাবিশ্বের গঠন, ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি এবং সৌরজগতের বাইরের গ্রহ নিয়ে গবেষণায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
নাসার নতুন এই টেলিস্কোপকে মহাকাশ গবেষণার পরবর্তী প্রজন্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের এমন কিছু রহস্য অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেগুলোর উত্তর এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা।
বর্তমানে মহাবিশ্বের যে অংশ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যায়, তার মধ্যে রয়েছে গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যাস ও মহাজাগতিক ধুলিকণা। কিন্তু বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাবিশ্বের বড় একটি অংশ এমন উপাদান দিয়ে গঠিত, যা সরাসরি দেখা যায় না। এসব অদৃশ্য উপাদানের মধ্যে ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি অন্যতম।
ডার্ক ম্যাটার মহাবিশ্বের গঠন ও বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তুর গতিবিধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। অন্যদিকে ডার্ক এনার্জিকে মহাবিশ্বের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি রহস্যময় শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নতুন টেলিস্কোপের মাধ্যমে এসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আশা করছেন গবেষকেরা।
ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ শুধু ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি নিয়ে গবেষণাই করবে না; সৌরজগতের বাইরে থাকা গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট অনুসন্ধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে মহাবিশ্বে পৃথিবীর মতো গ্রহের অস্তিত্ব এবং গ্রহমণ্ডলের গঠন সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে ২০২১ সালে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্পের গবেষণা দলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন লামীয়া আশরাফ মওলা। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ বর্তমানে পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে মহাবিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ছবি ও তথ্য পাঠাচ্ছে। সেই গবেষণার ধারাবাহিকতায় এবার আরও বিস্তৃত পরিসরে মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে অবস্থিত নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে। এরপর এটিকে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে নেওয়া হয়েছে উৎক্ষেপণের প্রস্তুতির জন্য।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ আগস্ট ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপের মহাকাশযাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। উৎক্ষেপণের পর এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের কোটি কোটি গ্যালাক্সি, নক্ষত্র ও গ্রহমণ্ডল সম্পর্কে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহের প্রত্যাশা করছে নাসা।
লামীয়া আশরাফ মওলা মনে করেন, বাংলাদেশের জন্যও মহাকাশ গবেষণায় আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। দেশে মহাকাশবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশি গবেষকদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
একজন বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর নাসার এমন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি দেশের বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপের অভিযান সফল হলে ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি এবং সৌরজগতের বাইরের গ্রহ সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রঃ ইন্ডিপেন্ডেন্ট
এম.কে

