TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

মার্কিন নতুন শুল্কনীতিতে চাপে যুক্তরাজ্যঃ ইউরোপীয় জোটের তুলনায় বেশি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন বৈশ্বিক শুল্কনীতির ফলে যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় জোটের তুলনায় বেশি আমদানি শুল্ক দিতে হবে। নতুন এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ইউরোপীয় জোটের ওপর যে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এতদিন ছিল, তা এখন অনেকটাই হারিয়ে যেতে পারে।

নতুন নীতির আওতায় বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর বাড়তি আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় জোট—উভয়ের জন্যই ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে এই ১০ শতাংশের পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশভিত্তিক অতিরিক্ত শুল্কও বহাল থাকবে। অন্যদিকে ইউরোপীয় জোটের জন্য নির্ধারিত ১০ শতাংশ শুল্কের মধ্যেই ওই অতিরিক্ত শুল্ক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে কার্যত যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ীদের ওপর তুলনামূলক বেশি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।

ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্সের বাণিজ্যনীতি প্রধান উইলিয়াম বেইন বলেন, ইউরোপীয় জোট ও অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাজ্যের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশ বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে আরও অনুকূল বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করেছে, তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

তবে যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, নতুন ঘোষণার ফলে দেশটির ব্যবসায়ীদের ওপর কার্যকর শুল্কহারে কোনো নেতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। সরকারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি বহাল রয়েছে এবং নতুন ব্যবস্থার ফলে স্কটল্যান্ডের হুইস্কি ও চিকিৎসা প্রযুক্তি পণ্যের ওপর শূন্য শুল্ক কার্যকর হওয়ায় কিছু খাত লাভবান হবে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্যমন্ত্রী জনাথন রেনল্ডস বলেছেন, নতুন ব্যবস্থায় স্কটল্যান্ডের হুইস্কি উৎপাদকরা উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবেন এবং এটি দেশটির রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করবে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় জোটের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ইউরোপীয় কমিশনের আরোপিত বিপুল অঙ্কের জরিমানাকে কেন্দ্র করে তিনি নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের অর্থভাণ্ডার নয় এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর অন্যায্য জরিমানা আর মেনে নেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, গুগল, মেটা ও অ্যামাজনের মতো মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্যায্যভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশন প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গুগলকে ৮৯ কোটি ইউরো জরিমানা করে। অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন অনুসন্ধানের ফলাফলে নিজেদের কেনাকাটা ও হোটেল-সংক্রান্ত সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

ট্রাম্প জানান, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার প্রশাসন অবিলম্বে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করবে, যার ভিত্তিতে ইউরোপীয় জোটের বিরুদ্ধে নতুন ও উল্লেখযোগ্য শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় জোটকে তাদের এই কর্মকাণ্ডের জন্য বড় মূল্য দিতে হবে।

নতুন শুল্ক ঘোষণার পরও যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের শেয়ারবাজারে তেমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। লন্ডনের প্রধান শেয়ারসূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। এর আগে এশিয়ার বাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়; বিশেষ করে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা যায়।

এদিকে ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির সমালোচনা করেছে জাপান। দেশটির প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা বলেন, জাপানের শিল্প ও বাণিজ্য আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়। তাই জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে জাপানি পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক সিদ্ধান্ত।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন শুল্কনীতি বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়াবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় জোট এবং এশিয়ার প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেতে পারে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

ভারতকে আবারও দুঃসংবাদ দিলো যুক্তরাষ্ট্র

গাজার ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেল পাকিস্তান

ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি চালানো কে এই টমাস অ্যালেন