19.5 C
London
September 27, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির কাছে সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তে ৫ জন গ্রেপ্তার

যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে মার্কিন বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে ‘বড় ঘটনা’র পর সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোররাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিটে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের দিকে যাওয়া তিনটি সন্দেহজনক যানবাহনের বিষয়ে খবর পায় পুলিশ। পরে সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা ওয়েলফোর্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করেন। তাদের বর্তমানে হেফাজতে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে।

ঘটনার পর ওয়েলফোর্ড গ্রামের আশপাশে বড় ধরনের নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়। প্রায় ৪০০ মিটার এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং কাছাকাছি প্রায় ৮৫টি বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অবসরকেন্দ্রে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সন্দেহজনক তিনটি যানবাহন ঘিরে তদন্ত চালাচ্ছে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। ঘটনাস্থলে কাউন্টার টেররিজম পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ এবং বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি যে ওই যানবাহনে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া গেছে কি না বা হামলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী ছিল।

ব্রিটেনের মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগ জানিয়েছে, তারা তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে। কাউন্টার টেররিজম পুলিশের জ্যেষ্ঠ জাতীয় সমন্বয়কারী ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ভিকি ইভান্স বলেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পাঁচজন হেফাজতে আছে। গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ভোরে পুলিশ দরজায় গিয়ে বাসিন্দাদের দ্রুত বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ঘাঁটিটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ব্রিটিশ সরকারের অনুমতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ঘাঁটিটি ব্যবহার করছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য বা এর সঙ্গে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। তবে আইটিভি নিউজ জানিয়েছে, তদন্তের একটি সম্ভাব্য দিক হিসেবে ইরানি সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ অন্যদের দিয়ে হামলার পরিকল্পনা করেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি এখনো তদন্তাধীন একটি সম্ভাবনা, নিশ্চিত তথ্য নয়।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের দপ্তর জানিয়েছে, তিনি আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের কাছের ঘটনাটি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। সরকারের একজন মুখপাত্র জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এবং সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আরএএফ ফেয়ারফোর্ডসহ যুক্তরাজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির প্রকৃত উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য লক্ষ্য এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।

সূত্রঃ বিবিসি

এমকে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনে লাখো মানুষের মোবাইলে একযোগে জরুরি সতর্কতা এলার্ম

হোম অফিসের আপত্তি প্রত্যাখানঃ আলবেনিয়ান মাদক ব্যবসায়ীকে দেশে ফেরানো যাবে না

ফ্রান্স-ব্রিটেনে মানবপাচার: ১১ বছরের দণ্ড এক পাচারকারীর