TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ম্যানচেস্টারকে হেয় করায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি জবাব ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠকে বসেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকের আগে ট্রাম্পের করা পুরোনো মন্তব্য—ম্যানচেস্টারকে ‘কোনো একটা শহর’ হিসেবে উল্লেখ করা—নিয়ে রসিকতার মাধ্যমে জবাব দিয়েছেন বার্নহ্যাম।

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র থাকাকালে বার্নহ্যাম সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ‘অত্যন্ত উদারপন্থী’ এবং একটি ‘শহরের মেয়র’। ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের পর বার্নহ্যাম বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। দুই নেতার প্রথম ফোনালাপেই বার্নহ্যাম ট্রাম্পকে বিষয়টি মনে করিয়ে দেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বার্নহ্যাম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ট্রাম্পকে বলেছিলেন, “মিস্টার প্রেসিডেন্ট, ম্যানচেস্টার কোনো একটা শহর নয়। এটা ম্যানচেস্টার।” পরে তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা তাদের রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। তাই অতীতের বিষয় নিয়ে হাস্যরস করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই এখন উপযুক্ত বলে তিনি মনে করেন।

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে বার্নহ্যামের মতবিরোধের ইতিহাস শুধু ম্যানচেস্টার নিয়ে মন্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়। ২০১৭ সালে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন না বলে জানিয়েছিলেন বার্নহ্যাম। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলার পরও ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করেছিলেন তিনি।

তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বার্নহ্যাম তার পুরোনো অবস্থান থেকে সরে এসে দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। জাতিসংঘ সফরের আগে তিনি বলেন, এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো বর্তমান পরিস্থিতির দিকে মনোযোগ দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়া। ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘হ্যাঁ’ বলেন।

অন্যদিকে, মুখোমুখি বৈঠকের পর ট্রাম্প বার্নহ্যামের প্রশংসা করেন। তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে ‘স্বাভাবিক ব্যবসায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, তার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন সম্পর্ক আরও ভালো অবস্থানে রয়েছে। দুই নেতা রোলস-রয়েস, জ্বালানি, অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ নিয়ে দুই দেশের সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়েছেন বার্নহ্যাম। তিনি বলেন, সংঘাত যত দ্রুত সম্ভব শেষ হওয়া প্রয়োজন এবং ব্রিটেন এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নিজের প্রথম বক্তব্যেও বার্নহ্যাম ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ ভূমিকা তুলে ধরার কথা জানিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি ও সম্ভাবনা, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং ব্রেক্সিট-পরবর্তী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তার আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে।

এদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অতীতের রাজনৈতিক বিরোধ পেছনে ফেলে দুই দেশের সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ম্যানচেস্টারকে ‘কোনো একটা শহর’ হিসেবে ট্রাম্পের পুরোনো মন্তব্যটি দুই নেতার প্রথম মুখোমুখি বৈঠকের আগে ও পরে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে ওঠে।

বৈঠকে শেষ পর্যন্ত দুই নেতার মধ্যে প্রকাশ্য কোনো বড় ধরনের উত্তেজনা দেখা যায়নি। বরং পুরোনো মন্তব্যকে রসিকতার মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বার্নহ্যাম যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেনের বর্তমান সম্পর্কের দিকে মনোযোগ দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান \ রেডিও নিউজ হাব

এমকে

আরো পড়ুন

লন্ডন হাই কমিশনের অবহেলার শিকার ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা

যুক্তরাজ্যে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ বিধিঃ মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট গ্রহণে বিবেচনার সুযোগ

যুক্তরাজ্যে কর ফাঁকিবাজদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি টাকা কেটে নিতে শুরু করল HMRC