যুক্তরাজ্যে ২০১২ সালের আগে ডিসক্রিশনারি লিভ পাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে এখনও যারা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (সেটেলমেন্ট) অর্জন করতে পারেননি, তাদের জন্য অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি মামলার বিশ্লেষণ।
অভিবাসনবিষয়ক বিশেষায়িত প্রকাশনা ফ্রি মুভমেন্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের আগের ডিসক্রিশনারি লিভধারীর সংখ্যা বর্তমানে খুবই সীমিত। তবুও ছয় বছরের যোগ্যতার সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার পরও অনেকেই এখনও স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে সবচেয়ে সাধারণ দুটি কারণ হলো অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে অবস্থান করা বা ওভারস্টেইং এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা। ওভারস্টেইংয়ের ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার সময়সীমা নতুন করে গণনা শুরু হতে পারে, ফলে আবেদনকারীদের অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে আলোচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছিল যে, ২০১২ সালের আগে ডিসক্রিশনারি লিভ পাওয়া কোনো ব্যক্তি অপরাধমূলক রেকর্ডের কারণে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। সেই রায়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন আবেদন প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা বৈধ বলে স্বীকৃতি পায়।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও অপরাধসংক্রান্ত বিষয়গুলো আবেদনকারীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে শুধু বসবাসের মেয়াদ পূরণ করলেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নিশ্চিত হয় না; আবেদনকারীর সামগ্রিক আচরণ, আইনি ইতিহাস এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
এদিকে, পুরোনো ডিসক্রিশনারি লিভধারীদের সংখ্যা ক্রমশ কমে আসায় এ ধরনের মামলাও এখন তুলনামূলকভাবে বিরল হয়ে উঠেছে। তবে যারা এখনও স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের ক্ষেত্রে সামান্য আইনি জটিলতাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের মামলাগুলো যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে ‘সু-চরিত্র’ এবং জনস্বার্থের বিষয়কে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। একই সঙ্গে এটি দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যে, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড এখনও একটি বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট
এম.কে

