বিশ্বব্যাপী অবৈধ বন উজাড় রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নতুন ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। লন্ডন ক্লাইমেট অ্যাকশন উইক উপলক্ষে মঙ্গলবার দেশটির সরকার জানিয়েছে, গ্রেট ব্রিটেনে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন পণ্য যাতে অবৈধ বন উজাড়ের সঙ্গে যুক্ত না থাকে, তা নিশ্চিত করতে নতুন নিয়ম চালু করা হবে।
সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, সয়াবিন, পাম তেল, কোকো, রাবার ও অন্যান্য বননির্ভর কৃষিপণ্যের ব্যবসায় জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সরবরাহ শৃঙ্খল যাচাই করতে হবে। এসব পণ্য সাধারণত চকলেট, রান্নার তেল, শ্যাম্পু, প্রসাধনীসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের বহু পণ্যে ব্যবহৃত হয়।
ব্রিটিশ সরকার বলছে, বিশ্বজুড়ে বনভূমি ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ কৃষি সম্প্রসারণ। বর্তমানে বৈশ্বিক বন উজাড়ের প্রায় ৯০ শতাংশই কৃষিজমি সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্য হওয়া বিভিন্ন কৃষিপণ্যের চাহিদা এই সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের ভোগ করা বিভিন্ন আমদানিকৃত পণ্যের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৯ হাজার হেক্টর বনভূমি উজাড় হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৯৪ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ ঘটেছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রকৃতিবিষয়ক মন্ত্রী মেরি ক্রেগ বলেন, বৈশ্বিক বন উজাড় রোধ করা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অন্যতম কার্যকর উপায়। তিনি বলেন, অবৈধ বন উজাড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে বাদ দেওয়া শুধু পরিবেশ সুরক্ষাই নয়, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
খুচরা বিক্রেতাদের সংগঠন ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়াম সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির কর্মকর্তারা মনে করেন, নতুন আইন বন সংরক্ষণে সহায়তা করবে এবং ইউরোপীয় বাজারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সামঞ্জস্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, পরিবেশবাদী সংগঠন ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএফ) জানিয়েছে, অ্যামাজন ও ইন্দোনেশিয়ার মতো অঞ্চলের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন ধ্বংস এখন শুধু পরিবেশগত নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকিতে পরিণত হয়েছে। সংগঠনটি দ্রুত নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে নতুন নীতিমালার বিস্তারিত চূড়ান্ত করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান কাঠ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হবে।
দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাজ্যের লক্ষ্য হলো এমন একটি মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করা, যাতে দেশটিতে বিক্রি হওয়া সংশ্লিষ্ট সব পণ্য সম্পূর্ণভাবে বন উজাড়মুক্ত উৎস থেকে উৎপাদিত হয়। সরকারের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।
সূত্রঃ ইউকে ডট গভ
এম.কে

