TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ও রাজনীতিতে শিক্ষাগত বিভাজন প্রকটঃ কম শিক্ষিতদের মধ্যে ডানপন্থী সমর্থন বেশি

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন, বৈচিত্র্য ও রাজনীতির বিষয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণে শিক্ষাগত যোগ্যতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে ডানপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হলেও তুলনামূলকভাবে কম শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এসব দলের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সেন্টার ফর সোশ্যাল রিসার্চ (NatCen) পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, এ-লেভেলের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি বা তার বেশি যোগ্যতাসম্পন্নদের তুলনায় দুই গুণেরও বেশি হারে ডানপন্থী দলকে সমর্থন করেন।

‘ডেমোগ্রাফিক ডিভাইডস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা ব্যক্তিদের কনজারভেটিভ পার্টি বা রিফর্ম ইউকে-কে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই প্রবণতা আর্থিক অনিশ্চয়তা বা আয়সংক্রান্ত পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়ার পরও অপরিবর্তিত থাকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে কেউ ডানপন্থী রাজনৈতিক দলকে ভোট দিয়েছে কি না—তা পূর্বাভাস দিতে হলে তার শিক্ষাগত পটভূমি জানা থাকলেই যথেষ্ট নির্ভুল ধারণা পাওয়া সম্ভব। এতে স্পষ্ট হয় যে, দেশটিতে রাজনৈতিক মেরুকরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা একটি কেন্দ্রীয় নির্ধারক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল কিছুটা যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতির সঙ্গেও সাদৃশ্যপূর্ণ। সেখানে ২০২৪ সালের নির্বাচনে কলেজ ডিগ্রিধারীদের তুলনায় হাইস্কুল বা তার নিচের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কমালা হ্যারিসের তুলনায় দ্বিগুণ হারে সমর্থন করেছেন।

তবে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা ছাড়াও জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং বসবাসের স্থান রাজনৈতিক সমর্থন নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ, পুরুষ ও গ্রামীণ এলাকার ভোটারদের মধ্যে ডানপন্থী সমর্থন বেশি লক্ষ্য করা যায়।

গবেষণাটি আরও জানায়, জাতিগত বৈচিত্র্য ও অভিবাসন বিষয়ে শিক্ষাগত বিভাজন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় যুক্তরাজ্যে আরও তীব্র। যুক্তরাজ্যে ডিগ্রিধারীদের ৬৫ শতাংশ মনে করেন, বৈচিত্র্য সমাজকে শক্তিশালী করে, যেখানে এ-লেভেল বা তার নিচে শিক্ষিতদের মধ্যে এই হার মাত্র ৩০ শতাংশ।

শ্বেতাঙ্গদের সামাজিক সুবিধা সংক্রান্ত প্রশ্নেও একই ধরনের বিভাজন দেখা যায়। যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ ডিগ্রিধারীদের ৬০ শতাংশ মনে করেন, শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের তুলনায় সমাজে বাড়তি সুবিধা পায়। বিপরীতে, এ-লেভেলের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্নদের মধ্যে এ মত পোষণ করেন মাত্র ৩০ শতাংশ।

অভিবাসন প্রশ্নে কঠোর মনোভাব কম শিক্ষিতদের মধ্যে বেশি দেখা গেছে। যুক্তরাজ্যে এ-লেভেলের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্নদের ৫৫ শতাংশ মনে করেন, অনুমতি ছাড়া বসবাসকারী অভিবাসীদের দেশে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। একই মত ডিগ্রিধারীদের মধ্যে রয়েছে ৩৬ শতাংশের।

NatCen-এর গবেষণা পরিচালক অ্যালেক্স স্কোলস বলেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থী রাজনীতির তুলনা প্রায়ই করা হলেও বাস্তবে এই দুই দেশের রাজনৈতিক মেরুকরণ ভিন্ন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তার মতে, ব্রিটেনে শিক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাজনরেখা হলেও যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সমর্থন গড়ে ওঠে পরিচয়, ধর্ম, লিঙ্গ, বয়স ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সমন্বয়ে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

রেকর্ড বন্যার পর যুক্তরাজ্যে তীব্র ঠান্ডাঃ তুষারপাত–বরফে নতুন ঝুঁকি

নিউজ ডেস্ক

সেন্ট জর্জ পতাকায় ভয়ঃ বর্ণবাদী আতঙ্কে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যখাত

ইমিগ্রেশন ওয়াচডগের প্রধান পরিদর্শককে বরখাস্ত করল যুক্তরাজ্য সরকার

নিউজ ডেস্ক