যুক্তরাজ্যের ডানপন্থি রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ নতুন আর্থিক বিতর্কে পড়েছেন। অর্থ জালিয়াতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি উঠেছে। এ ঘটনায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে। এমন সময় এই অভিযোগ সামনে এলো, যখন বিভিন্ন জনমত জরিপে অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে রিফর্ম ইউকে উল্লেখযোগ্য সমর্থন পাচ্ছে।
ফারাজের বিরুদ্ধে এর আগেও পার্লামেন্টের একটি কমিটির তদন্ত চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি থাইল্যান্ডভিত্তিক ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোক্তা ও শতকোটিপতি ক্রিস্টোফার হারবোনের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ পাউন্ড অনুদান গ্রহণ করেছিলেন।
এরই মধ্যে সানডে টাইমসের এক প্রতিবেদনে নতুন দাবি করা হয়েছে, হারবোনের অনুদানের বাইরে ফারাজ আরও এক ক্রিপ্টো উদ্যোক্তা জর্জ কটরেলের কাছ থেকেও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সুবিধা পেয়েছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, কটরেল তার নিরাপত্তা, গাড়িচালক, কর্মী এবং আবাসনের ব্যয় বহন করেছিলেন। এমনকি বাকিংহাম প্যালেসের কাছাকাছি একটি বড় ম্যানশনও তার জন্য ভাড়া করা হয়েছিল। এসব সুবিধা দেওয়া হয়েছিল ফারাজ পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে।
তবে অভিযোগের মূল বিষয় হলো, এসব আর্থিক সুবিধার তথ্য তিনি যথাযথভাবে প্রকাশ না করে সংসদীয় নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন কি না। সমালোচকদের দাবি, সম্ভাব্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট সুবিধা সম্পর্কে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে ফারাজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, জর্জ কটরেল তাকে একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য অর্থ সহায়তা করেছিলেন। তার দাবি, এটি সংসদীয় নিয়ম ভঙ্গের কোনো ঘটনা নয়।
রিফর্ম ইউকের রাজনীতিবিদ রবার্ট জেনরিকও ফারাজের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, কটরেল ফারাজের দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং তিনি নিরাপত্তা ও কর্মীদের ব্যয় বহন করেছিলেন। যে বাড়িটি ভাড়া করা হয়েছিল, সেখানে ফারাজ খুব অল্প সময়ের জন্য এবং মাঝে মধ্যে অবস্থান করেছিলেন। তার ভাষ্য, এতে কোনো নিয়ম ভঙ্গ হয়নি।
এদিকে লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের এমপি জশ বাবারিনডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, তিনি ফারাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন। তার মতে, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
রিফর্ম ইউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফারাজ এসব সুবিধার তথ্য প্রকাশ করেননি, কারণ সেগুলো ব্যক্তিগত উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তবে বিরোধীরা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় এবং বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি অব্যাহত রেখেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। সেই প্রেক্ষাপটে দলের নেতা নাইজেল ফারাজের বিরুদ্ধে ওঠা নতুন এই অভিযোগ ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সূত্রঃ সানডে টাইমস
এম.কে

