যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প সরকারিভাবে অনুমোদন পেয়েছে। দীর্ঘ পরিকল্পনা পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, যদিও স্থানীয় পর্যায়ে এর বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা ছিল।
প্রকল্পটি লিংকন ও স্লিফোর্ড এলাকার মাঝামাঝি একটি স্থানে বাস্তবায়িত হবে। সংশ্লিষ্ট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।
সরকারি জ্বালানি নিরাপত্তা ও শূন্য নিঃসরণ বিষয়ক দপ্তর স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তি সত্ত্বেও প্রকল্পটিকে অনুমোদন দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশীয় পরিষ্কার জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো এবং বিদেশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
প্রকল্পটি প্রায় ১ হাজার ৭০০টি ফুটবল মাঠের সমান বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হবে। এর সঙ্গে একটি ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা যুক্ত থাকবে, যা বিদ্যুৎ সঞ্চয় ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগ ব্রিটিশ জনগণকে সাশ্রয়ী ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা থেকে বেরিয়ে আসতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি অপরিহার্য।
তবে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, এতে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি হারিয়ে যাবে এবং এলাকার প্রাকৃতিক দৃশ্যপট মারাত্মকভাবে পরিবর্তিত হবে।
স্থানীয় একটি আন্দোলনকারী গোষ্ঠীর প্রতিনিধি বলেন, এই সিদ্ধান্তে তারা গভীরভাবে ক্ষুব্ধ এবং এটি গণতান্ত্রিক মতামতের প্রতি অবহেলার পরিচয়। তাদের দাবি, এই প্রকল্পের কারণে প্রায় ৪ হাজার একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধিও বলেন, এটি এলাকার জন্য দুঃখজনক সিদ্ধান্ত। তার মতে, পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য নতুন হাঁটার পথ, গাছপালা ও সবুজ বেষ্টনী তৈরি করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহায়তার জন্য একটি তহবিল গঠন করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকল্প অনুমোদন তাদের জন্য একটি বড় অগ্রগতি। তারা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং নির্মাণকাজ চলাকালে পরিবেশগত প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা হবে।
প্রকল্পটি ২০২৯ সাল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

