যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদন ও অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি, বিচারিক জট কমানো এবং যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার হারানো ব্যক্তিদের দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করতে নতুন আইন আনতে যাচ্ছে দেশটির সরকার।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের পর থেকে আশ্রয় আবেদনসংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তির জন্য একটি নতুন স্বাধীন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। এই কর্তৃপক্ষে শুধু বিচারক নয়, বিভিন্ন পেশাগত পটভূমি থেকে আসা পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত ও স্বাধীনভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের কার্যপদ্ধতি অনেকটা ম্যাজিস্ট্রেটদের মতো হবে।
সরকারের মতে, বর্তমানে আপিল ব্যবস্থায় অতিরিক্ত মামলার চাপ থাকায় সিদ্ধান্ত পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক আবেদনকারী বারবার আপিল ও নতুন নতুন দাবি উত্থাপন করে দেশত্যাগের নির্দেশ কার্যকর হওয়া বিলম্বিত করছেন। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই সুযোগ সীমিত করা হবে এবং দ্রুত ও ন্যায্যভাবে মামলার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা হবে।
নতুন আইনের আওতায় একটি একক আপিল ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর ফলে কোনো আবেদনকারী একবার আপিলে ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন বিষয় দেখিয়ে ধারাবাহিকভাবে নতুন আবেদন বা আপিল করে অপসারণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করতে পারবেন না।
সরকার জানিয়েছে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের মামলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। একই সঙ্গে যাদের আশ্রয় আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং বিদেশি অপরাধীদের মধ্যে অন্তত ৪৫ হাজার ব্যক্তিকে যুক্তরাজ্য থেকে অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অভিবাসন প্রত্যাবাসন কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে। একটি কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা ১৩০ থেকে বাড়িয়ে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। অন্য একটি কেন্দ্রেও ১৬০ থেকে ৪০০ শয্যায় সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সরকারের বিশ্বাস, এর ফলে অপসারণ কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, বর্তমান আপিল ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। অনেকেই ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক আপিলের মাধ্যমে অপসারণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছেন। নতুন স্বাধীন আপিল কর্তৃপক্ষ দ্রুত এবং নিরপেক্ষভাবে প্রতিটি আবেদন নিষ্পত্তি করবে। যাদের আবেদন বৈধ, তারা ন্যায্য শুনানির সুযোগ পাবেন। আর যাদের যুক্তরাজ্যে থাকার কোনো আইনগত অধিকার নেই এবং যারা ব্যবস্থার অপব্যবহার করছেন, তাদের দ্রুত দেশ থেকে অপসারণ করা হবে।
সরকারের দাবি, এই সংস্কারের মাধ্যমে একদিকে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীরা দ্রুত বিচার পাবেন, অন্যদিকে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার কমবে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলার জটও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
এম.কে

