লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকে ঘিরে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এক মন্তব্যে লেখক ও রাজনৈতিক সমালোচক অ্যাডাম নিউবেরি অভিযোগ করেছেন, মেয়র হিসেবে সাদিক খানের সাফল্যের চেয়ে নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও আত্মপ্রচারে তার দক্ষতাই বেশি লক্ষণীয়। একই সঙ্গে ইউলেজ এবং গ্রুমিং গ্যাং কেলেঙ্কারি নিয়ে মেয়রের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সাদিক খানকে নিয়ে নিউবেরির সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছে মেয়রের সাম্প্রতিক একটি সংবাদপত্র সাক্ষাৎকারে করা দাবি—‘এখন আর কেউ ইউলেজ নিয়ে কথা বলে না।’ নিউবেরির মতে, এই মন্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ ইউলেজ বা আল্ট্রা লো এমিশন জোনের কারণে লন্ডনের বহু গাড়িচালক অতিরিক্ত ব্যয় ও বিধিনিষেধের মুখোমুখি হয়েছেন।
ইউলেজ নীতির আওতায় নির্ধারিত পরিবেশগত মান পূরণ না করা যানবাহনের মালিকদের নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচলের জন্য দৈনিক চার্জ দিতে হয়। সমালোচকদের দাবি, এর ফলে অনেক লন্ডনবাসী তাদের পুরোনো গাড়ি পরিবর্তন বা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে লন্ডনে গাড়ি ব্যবহারের দূরত্ব অনুযায়ী অর্থ আদায়ের কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হলে তা সাধারণ মানুষের ওপর আরও আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
নিউবেরি তার বক্তব্যে সাদিক খানের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়েও সরাসরি আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, সাদিক খান নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে অত্যন্ত দক্ষ এবং তার রাজনৈতিক আত্মপ্রচারের ক্ষমতা অসাধারণ। তিনি আরও মন্তব্য করেন, সাদিক খানের রাজনৈতিক অসততা ‘এক ধরনের শিল্পে’ পরিণত হয়েছে। তবে এসব মন্তব্য নিউবেরির নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও সমালোচনা।
এরপর তিনি আরও গুরুতর অভিযোগ হিসেবে গ্রুমিং গ্যাং কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ সামনে আনেন। নিউবেরির দাবি, লন্ডনে গ্রুমিং গ্যাং-সংক্রান্ত অভিযোগ ও শিশুদের যৌন শোষণের মতো গুরুতর বিষয় যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে সাদিক খানের পূর্ববর্তী অবস্থান এবং ঘটনাগুলো নিয়ে তার বক্তব্যও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
নিউবেরি দাবি করেন, তার সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীতে গ্রুমিং গ্যাং-সংক্রান্ত ঘটনাগুলোর ব্যাপকতা তুলে ধরেছে। তার মতে, বিষয়টির জন্য যে মাত্রার রাজনৈতিক মনোযোগ ও জবাবদিহি প্রয়োজন, সেটি নিশ্চিত করার পরিবর্তে মেয়র নিজের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
তবে এখানে উল্লেখযোগ্য, নিউবেরির বক্তব্য মূলত সাদিক খানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নীতির ওপর করা একটি তীব্র মতামতভিত্তিক সমালোচনা। তার বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি তথ্য, তদন্তের ফলাফল এবং সাদিক খানের নিজস্ব বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, সাদিক খান দীর্ঘদিন ধরেই লন্ডনের পরিবেশনীতি, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ইউলেজ নিয়ে সমর্থকদের যুক্তি হলো, এর উদ্দেশ্য দূষণ কমানো এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা; বিপরীতে সমালোচকদের অভিযোগ, নীতিটি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের গাড়িমালিকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
এদিকে গ্রুমিং গ্যাং ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে অতীতের শিশু যৌন শোষণ ও কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। ফলে এই বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, ইউলেজ নিয়ে সাদিক খানের মন্তব্য এবং গ্রুমিং গ্যাং ইস্যুতে তার রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, মেয়রের উচিত রাজনৈতিক ভাবমূর্তি রক্ষার পাশাপাশি বিতর্কিত নীতিমালা ও অতীতের গুরুতর অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, সাদিক খানের নীতির সমর্থকরা মনে করেন, লন্ডনের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তার নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে রাজনৈতিক সমালোচনার বাইরে বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এম.কে

