গোর্টন অ্যান্ড ডেন্টনে আসন্ন উপনির্বাচনে রিফর্ম ইউকের প্রার্থী ম্যাট গুডউইন সন্তান না থাকা ব্যক্তিদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাব দেওয়ায় যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত তার একটি ব্লগ পোস্টে এই প্রস্তাবের কথা উঠে এসেছে, যা সম্প্রতি আবার আলোচনায় এসেছে।
ওই লেখায় গুডউইন প্রস্তাব করেন, যাদের সন্তান নেই তাদের জন্য একটি “নেগেটিভ চাইল্ড বেনিফিট ট্যাক্স” চালু করা উচিত। পাশাপাশি, যেসব নারীর দুই বা তার বেশি সন্তান রয়েছে, তাদের জন্য ব্যক্তিগত আয়কর বাতিলের কথাও বলেন তিনি।
সমালোচকদের মতে, এই ধারণা পুরুষ ও নারী উভয়ের ওপর প্রভাব ফেললেও বাস্তবে এটি নারীদের ওপর অসম চাপ সৃষ্টি করবে, কারণ কর এড়াতে সন্তান নেওয়ার সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে।
এই প্রস্তাবকে অনেকেই ডিস্টোপিয়ান উপন্যাস ও সিরিজ ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’–এর সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় নারীদের জোরপূর্বক সন্তান ধারণে বাধ্য করা হয়। সমালোচকদের মতে, গুডউইনের ধারণা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পছন্দের অধিকারের পরিপন্থী।
নিজের ব্লগে গুডউইন দাবি করেন, “ব্রিটিশ পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে” এবং এর ফলে দেশের ওপর “বাস্তব ও গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব” পড়ছে।
পরিবারকেন্দ্রিক সংস্কৃতি জোরদার করতে তিনি জাতীয়ভাবে পরিবার ও পিতামাতৃত্ব উদযাপনের দিন ঘোষণা, পাঠ্যক্রমে পরিবারের গুরুত্ব অন্তর্ভুক্ত করা, বেশি সন্তান নিতে আর্থিক প্রণোদনা এবং নতুন আবাসন প্রকল্পে ব্রিটিশ পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো প্রস্তাবও দেন।
এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেছেন লেবার পার্টির নেত্রী লুসি পাওয়েল। তিনি বলেন, এই ধারণা “লাখো লাখো নারীকে সন্তান নেওয়া বা না নেওয়ার বিষয়ে তাদের মৌলিক সিদ্ধান্তের মর্যাদা কেড়ে নেবে।” তার ভাষায়, এটি বিভাজনমূলক রাজনীতির উদাহরণ, যা সমাজকে একত্র করার বদলে আরও বিভক্ত করবে।
লুসি পাওয়েল আরও অভিযোগ করেন, নাইজেল ফ্যারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির রাজনীতিতে আগ্রহী। তিনি বলেন, গোর্টন অ্যান্ড ডেন্টনে এই ধরনের চরম অবস্থানকে পরাজিত করাই জরুরি, নইলে সেটি স্থানীয় রাজনীতিতে বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
ম্যাট গুডউইনকে গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে রিফর্ম ইউকের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দলটির প্রচার কার্যালয় উদ্বোধনের সময় নাইজেল ফ্যারাজ দাবি করেন, তাদের প্রচারণা শক্তিশালীভাবে শুরু হয়েছে এবং জরিপ অনুযায়ী এই উপনির্বাচন দ্রুতই লেবার ও রিফর্মের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াইয়ে পরিণত হচ্ছে।
এর আগে গুডউইন সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী ও অভিবাসন বিষয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। একাধিক ঘটনায় তার বক্তব্যকে বিভাজনমূলক ও বর্ণবাদী বলে আখ্যা দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। এসব পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে আসায় উপনির্বাচনের আগে রিফর্ম ইউকের জন্য চাপ আরও বেড়েছে।
এদিকে রিফর্ম ইউকের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, এই প্রস্তাবকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তার ভাষায়, এটি জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় সম্ভাব্য বিভিন্ন ধারণার একটি মাত্র অংশ, যা নিয়ে পরিণত ও দায়িত্বশীল আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তবে সমালোচকরা বলছেন, পরিবার নীতির নামে এমন কর প্রস্তাব ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
এম.কে

