TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে কঠোর অভিবাসন ও আশ্রয় বিল আসছে, জোরপূর্বক বহিষ্কার বাড়ানোর পরিকল্পনা

যুক্তরাজ্য সরকার আগামী সপ্তাহে সংসদে একটি বিতর্কিত অভিবাসন ও আশ্রয় বিল উত্থাপন করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের জোরপূর্বক বহিষ্কার বৃদ্ধি, বয়স যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা এবং মানবাধিকার আইনের আওতায় কিছু আবেদন সীমিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই বিল নিয়ে ইতোমধ্যে শরণার্থী অধিকার সংগঠন, শিশু অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের উদ্যোগে আনা বিলটি আগামী মঙ্গলবার পার্লামেন্টে উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিলটি লেবার পার্টির কিছু সদস্য, লিবারেল ডেমোক্র্যাট এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত আইনে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রয়োগ নতুনভাবে নির্ধারণ করা হবে। এই অনুচ্ছেদ ব্যক্তির পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনের অধিকার নিশ্চিত করে। সরকারের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে এই অধিকারকে বহিষ্কার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, যা আইন ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

বিলে আশ্রয়প্রার্থীদের বয়স নির্ধারণের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বয়স নির্ধারণের পরিকল্পনা নিয়ে শিশু অধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এতে অনেক শিশুকে ভুলভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি রয়েছে।

এছাড়া বর্তমানে বিদ্যমান স্বাধীন আশ্রয় ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থার পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন আপিল সংস্থা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে যেসব ব্যক্তি সব ধরনের আপিলের সুযোগ শেষ করেছেন, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে জোরপূর্বক বহিষ্কারের বিধানও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

সরকার আধুনিক দাসত্ববিরোধী আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন আনতে চায়। এর উদ্দেশ্য হলো দেরিতে উপস্থাপিত দাবিগুলোর সুযোগ সীমিত করা। তবে সমালোচকদের মতে, এতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরাও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন।

অন্যদিকে, অধিকাংশ অভিবাসী কর্মীর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার পরিকল্পনা এই বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। যদিও সরকার পরবর্তীতে গৌণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই পরিবর্তন কার্যকর করতে পারে বলে জানা গেছে।

শরণার্থী সহায়তা সংস্থা সেফ প্যাসেজ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী জো কোবলি বলেছেন, সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কঠোর নীতিমালা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তিনি বিশেষ করে পরিবার পুনর্মিলনের ওপর সম্ভাব্য বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, যুদ্ধ ও নির্যাতনের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর একত্রিত হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্র্যান্ট চিলড্রেনস কনসোর্টিয়াম। সংস্থাটির সহ-সভাপতি অনিতা হারেল বলেন, প্রস্তাবিত আইন শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আধুনিক দাসত্বের শিকার শিশুদের সুরক্ষা পাওয়ার পথ সংকুচিত করতে পারে। তিনি শিশু অধিকার মূল্যায়ন প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, বিলটি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও আশ্রয় নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। তবে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং শিশু সুরক্ষার প্রশ্নে এটি সংসদ ও নাগরিক সমাজে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

অভিবাসী বা এসাইলাম আবেদনকারীদের ফান্ড সহায়তা সহজ করতে হবেঃ দাতব্য সংস্থা

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর পেট্রোলের দাম এই প্রথম দেড় পাউন্ডের নিচে

হিথ্রোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় যাত্রীরা