20 C
London
June 29, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে কেয়ারকর্মীদের স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা দ্বিগুণ করা ‘নিষ্ঠুর’, বলছেন অধিকারকর্মীরা

যুক্তরাজ্যে বিদেশি কেয়ারকর্মীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন) জন্য প্রয়োজনীয় সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার সরকারি পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিক অধিকারকর্মী, ট্রেড ইউনিয়ন এবং অভিবাসী কেয়ারকর্মীরা এই পরিকল্পাকে ‘নিষ্ঠুর’, ‘অমানবিক’ ও ‘বিবেকবর্জিত’ আখ্যা দিয়ে কেয়ারকর্মীদের এ নিয়মের বাইরে রাখার দাবি জানিয়েছেন।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মাইক ট্যাপ। সম্প্রতি এক নিবন্ধে তিনি বলেন, বিদেশি কেয়ারকর্মীদের ওপর নতুন ১০ বছরের শর্ত প্রয়োগ করা উচিত নয়। তার এই অবস্থানের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের দাবি জানান। একই সঙ্গে সংবেদনশীল সরকারি নথি ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ট্যাপের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, তিনি সরকারের প্রস্তুতাধীন অভিবাসন নীতির তথ্য ফাঁস করেছেন।

তবে শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মাইক ট্যাপের প্রস্তাব বাস্তবসম্মত এবং মানবিক। ওয়ার্ক রাইটস সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ড. ডোরা-অলিভিয়া ভিকল বলেন, এসব কর্মী যুক্তরাজ্যের আহ্বানেই বৈধভাবে দেশটিতে এসেছেন এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাতের সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এখন তাদের জন্য নিয়ম পরিবর্তন করা অন্যায় এবং এটি একটি লেবার সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়।

ইউনিসনের সামাজিক সেবা বিভাগের প্রধান গ্যাভিন এডওয়ার্ডস বলেন, কেয়ারকর্মীরা যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা টিকিয়ে রাখতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু তারা স্থায়ী বসবাসের লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নিয়ম বদলে দেওয়া তাদের প্রতি ‘মুখে চপেটাঘাতের’ সামিল। তার মতে, বর্তমান স্পনসরশিপভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থা কর্মীদের নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে বেঁধে রাখে, ফলে শোষণ ও কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

এদিকে কয়েকজন অভিবাসী কেয়ারকর্মী তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। জিম্বাবুয়ে থেকে আসা এক নারী কর্মী জানান, যুক্তরাজ্যে এসে তাকে নিয়োগকর্তার বাড়ির পেছনের একটি কাঠের ঘরে থাকতে বাধ্য করা হয়। সেখানে ছিল না চলমান পানির ব্যবস্থা, এমনকি রাতে শৌচাগারের পরিবর্তে একটি বালতি ব্যবহার করতে হতো। তিনি বলেন, প্রথম কয়েক মাসের অমানবিক পরিস্থিতি তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল এবং একসময় আত্মহত্যার চিন্তাও মাথায় এসেছিল।

তিনি বর্তমানে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার মাত্র ১০ মাস দূরে রয়েছেন। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তাকে আরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

অন্যদিকে নাইজেরিয়া থেকে আসা আরেক কেয়ারকর্মী জানান, তিনি ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন এবং টানা এক মাস কোনো ছুটি পাননি। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, শারীরিক ক্লান্তি ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে না পারার কষ্টের মধ্যেও তিনি প্রতিবাদ করতে সাহস পান না, কারণ তার ভিসা নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল।

তার ভাষায়, পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর অপেক্ষা করতে বাধ্য করা ‘অমানবিক’। তিনি বলেন, নিয়োগকর্তারা অনেক সময় কর্মীদের ভিসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। এমন পরিস্থিতিতে আরও ১০ বছর একই অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা সম্ভব নয়।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সরকার পূর্ববর্তী নিয়মে যুক্তরাজ্যে আসা কেয়ারকর্মীদের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত প্রয়োগ করে, তাহলে হাজারো কর্মী দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তা, শোষণ এবং মানসিক চাপের মধ্যে পড়বেন। ফলে সরকারের নতুন অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্য কি এবার লকডাউন এড়াতে পারবে?

অনলাইন ডেস্ক

রানির শেষকৃত্যানুষ্ঠানের লাইভ আপডেট

অনলাইন ডেস্ক

আইসল্যান্ড সুপারমার্কেটে বয়স্কদের জন্য ডিসকাউন্ট

অনলাইন ডেস্ক