TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে কোটি মানুষের ভরসা ইউনিভার্সাল ক্রেডিট, কিন্তু বাড়ছে শর্ত ও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি

যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সহায়তা প্রদানকারী সরকারি এই ভাতা প্রকল্পে দাবিকারী সংখ্যা জুলাই, ২০২৫ নাগাদ ৮০ লাখে পৌঁছে রেকর্ড গড়েছে। এটি ২০১৩ সালে এটির সূচনার পর সর্বোচ্চ সংখ্যা। ইউনিভার্সাল ক্রেডিট পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয় ব্যক্তির আয়, কর্মসংস্থানের অবস্থা, সঞ্চয় (যা £১৬,০০০-এর কম হতে হবে) এবং বয়সের ভিত্তিতে। যারা দম্পতি, তাদের জন্য যৌথ দাবি করা বাধ্যতামূলক।

 

এই ভাতা চালু রাখতে দাবিকারীদের অবশ্যই ‘ক্লেইম্যান্ট কমিটমেন্ট’ বা দাবিকারীর প্রতিশ্রুতিপত্র মেনে চলতে হয়, যাতে সাধারণত কাজ খোঁজা, ওয়ার্ক কোচের সাথে সাক্ষাৎ বা দক্ষতা উন্নয়নের মতো শর্ত থাকে। কোনো শর্ত পূরণ না করা হলে, ‘স্যানশন’ বা নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে পারেন দাবিকারী।

ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস (ডিডব্লিউপি) সম্প্রতি সতর্ক করে দিয়েছে যে দাবিকারীদের অবশ্যই তাদের দায়িত্বগুলো স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে এবং পালন করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ হলে, অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক দাবিকারীর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা প্রতিটি দিনের জন্য তাদের ভাতার ‘স্ট্যান্ডার্ড এলাউন্স’-এর ১০০% হারিয়ে যাবে। ১৬-১৭ বছর বয়সী বা শুধুমাত্র আলোচনার অ্যাপয়েন্টমেন্টে অংশ নেওয়ার দায়িত্ব যাদের, তাদের জন্য এটি ৪০% হ্রাস পাবে। অনেক ক্ষেত্রে, আয় বা অন্য কাটতির কারণে ভাতা যদি ইতিমধ্যেই কম থাকে, তাহলে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রয়োগ হলে ভাতা শূন্যে নেমে যেতে পারে।

তবে ডিডব্লিউপি এও জানিয়েছে যে অসুস্থতা, জরুরি পারিবারিক সমস্যা বা পূর্ব-নির্ধারিত চিকিৎসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের মতো ‘ভালো কারণ’ থাকলে নিষেধাজ্ঞা এড়ানো সম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে দাবিকারীকে যত দ্রুত সম্ভব তার অনলাইন জার্নালে নোট যোগ করে বা ওয়ার্ক কোচকে ফোন করে জানাতে হবে। এ ধরনের যোগাযোগের ব্যবস্থা চালু রাখার ওপরও জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ এই ভাতার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত নীতির প্রভাবও এখন ব্যাপক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দাবিকারীদের পক্ষ থেকে সচেতনতা এবং কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরিষ্কার নির্দেশনা এই প্রক্রিয়ায় জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্রঃ ইকো

এম.কে

আরো পড়ুন

বন্ধ হয়ে গেছে বহু ব্রিটিশ রেস্তোরাঁ

ভাড়াটেদের অধিকার বিল

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হতে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা