যুক্তরাজ্যে একটি কর্মসংস্থান ট্র্যাইবুনালে তিনজন বাদী অভিযোগ করেছেন বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানা যায়। মুম্বাইভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (TCS) যুক্তরাজ্যে পুনর্গঠনের সময় তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে বলে বাদীরা নিশ্চিত করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ভারতের কনগ্লোমারেট টাটা গ্রুপের যুক্তরাজ্য শাখা পরিকল্পিতভাবে একটি ছাঁটাই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যার লক্ষ্য ছিল বয়স্ক এবং অ-ভারতীয় নাগরিকরা।
তিনজন বাদীর দাবি, প্রায় £১১০ বিলিয়ন মূল্যের প্রতিষ্ঠান টি,সি,এস ২০২৩ সালের মাঝামাঝি হতে শুরু হওয়া একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনার সময় বয়স এবং জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য করেছে। যারা শিকার হয়েছেন তারা বলে বাদীরা জানিয়েছেন।
এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া একটি অনুরূপ মামলার প্রতিচ্ছবি, যেখানে কমপক্ষে ২২ জন কর্মী অভিযোগ করেছেন টি,সি,এস অল্প নোটিশে তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে এবং তাদের অনেককেই ভারত থেকে আসা H1-B ভিসাধারী কর্মীদের দ্বারা প্রতিস্থাপন করেছে।
টিসিএস উভয় মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই প্রতিষ্ঠান টাটা গ্রুপের অংশ, যার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে টেটলি টি ও জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার।
লন্ডনের প্রধান বাদী স্টিভ বিয়ার ট্রাইব্যুনালে বলেন, টিসিএস তাকে “অন্যায় ও বৈষম্যমূলকভাবে” চাকরিচ্যুত করেছে। তিনি বলেন, এটি একটি আইটি আউটসোর্সিং ব্যবসা, যার ক্লায়েন্টদের মধ্যে ছিল ভার্জিন আটলান্টিক, ডেনিশ শিপিং কোম্পানি মায়ার্স্ক এবং বীমা প্রতিষ্ঠান অ্যাভিভা।
স্টিভ বিয়ার ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে টিসিএস-এ যোগ দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন—কোম্পানিটি “বয়স্ক, প্রধানত অ-ভারতীয় নাগরিকদের” একটি দলকে ছাঁটাইয়ের জন্য টার্গেট করেছিল, যারা কনসালটিং সার্ভিসেস ও ইন্টিগ্রেশন (CS&I) বিভাগে কাজ করতেন।
তিনি বলেন, ছাঁটাই প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে টার্গেটকৃত অ-ভারতীয় কর্মীদের ছাটাই করা যায় এবং তুলনামূলকভাবে তরুণ, ভারতীয় কর্মীরা রক্ষা পায়।
তিনি অভিযোগ করেন, এটি করা হয়েছিল একটি “টিকবক্স” ধরনের পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যার ফলাফল আগেই নির্ধারিত ছিল।
স্টিভ বিয়ার তার অভিযোগে বলেন, টিসিএস একটি “বেইট-অ্যান্ড-সুইচ” কৌশল ব্যবহার করে—যার মাধ্যমে তারা সম্ভাব্য গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে “স্থানীয়” কর্মীদের তাদের বিক্রয় প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করে। অত:পর চুক্তি পাওয়ার পর সেই স্থানীয় কর্মীদের ভারতীয় কর্মীদের দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়।
তিনি দাবি করেন, অ-ভারতীয় কর্মীদের—বিশেষত যারা CS&I বিভাগে কাজ করতেন—টিসিএস তাদের কম অনুগত হিসেবে বিবেচনা করত।
তিনি আরও বলেন, চুক্তি জিততে টিসিএস অনেক সময় সম্ভাব্য খরচ কম দেখাত, যার ফলে “অভিজ্ঞ” কিন্তু ব্যয়বহুল CS&I কর্মীদের প্রতিস্থাপন করার প্রবণতা বেড়ে যায়।
বিয়ার ২০২৩ সালের আগস্টে পাঠানো একটি ইমেইলের কথা উল্লেখ করেন তার সাক্ষ্যে। যেখানে একজন মানবসম্পদ পরিচালক বলেছিলেন—যেসব কর্মী “বিলযোগ্য” প্রকল্পে নিযুক্ত নন, তারা ঝুঁকিতে রয়েছেন।
আদালতে দাখিল করা এক প্রতিক্রিয়ায়, টিসিএস বিয়ারের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বাকি দুই বাদী, যারা বয়স ও জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগ এনেছেন, এখনও তাদের সাক্ষ্য দেননি।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে
০৫ এপ্রিল ২০২৫