যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় ডাকসেবা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল মেইলকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মী দাবি করেছেন, ডেলিভারি টার্গেট পূরণ হয়েছে—এমন ধারণা দিতে কর্তৃপক্ষ তাদের চিঠিপত্র সাময়িকভাবে লুকিয়ে রাখতে নির্দেশ দিচ্ছে।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অন্তত ১০ জন ডাককর্মী জানিয়েছেন, কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অফিস পরিদর্শনে এলে তাদের “চিঠি লুকাতে” বলা হয়। এ প্রক্রিয়ায় অবশিষ্ট চিঠিগুলো ট্রলিতে তুলে অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয় এবং পরে আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় সংশ্লিষ্ট এলাকার সব ডাক বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অতিরিক্ত পার্সেল ডেলিভারির চাপে অনেক সময় চিঠি বিতরণ করা সম্ভব হয় না। তখন ব্যবস্থাপকরা কর্মীদের বলেন, “চিঠি নিয়ে বাইরে ঘুরে আসো”, যাতে পরিদর্শনের সময় অসম্পূর্ণ কাজ আড়াল করা যায়। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে “লজ্জাজনক ও প্রতারণামূলক” বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে, চলতি মাসের শুরুতেই ডাকসেবার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সময়মতো চিঠি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না রয়্যাল মেইল। আইন অনুযায়ী সপ্তাহে ছয় দিন ফার্স্ট ক্লাস চিঠি সরবরাহ বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে তা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
লেবার দলের সংসদ সদস্য ডেভ রবার্টসন অভিযোগ করেছেন, তার নির্বাচনী এলাকায় মানুষ রয়্যাল মেইলের সেবায় চরম ভোগান্তির শিকার। তিনি বলেন, “আমাকে জানানো হয়েছিল সব ফার্স্ট ক্লাস চিঠি সময়মতো বিতরণ করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।” তার মতে, প্রতিষ্ঠানটি হয় তাদের পারফরম্যান্স সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছে, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করছে।
অন্যদিকে, কমিউনিকেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডেভ ওয়ার্ড বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা নিয়োগ সংকট, কম বেতন এবং খারাপ কর্মপরিবেশের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এটিকে “বিষাক্ত ব্যবস্থাপনা সংস্কৃতির ফল” বলে উল্লেখ করেন।
তবে রয়্যাল মেইল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কর্মীরা চিঠি লুকাচ্ছেন—এমন অভিযোগ তাদের কার্যক্রমের সঠিক প্রতিফলন নয়। তিনি দাবি করেন, প্রায় ৯২ শতাংশ চিঠি সময়মতো বিতরণ করা হয় এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণে নিয়মিত প্রযুক্তিগত নজরদারি ও আকস্মিক পরিদর্শন চালানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম নয়, বরং যুক্তরাজ্যের ডাকসেবা ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
এম.কে

