TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ডিজিটাল আইডি ইস্যুতে সরকার বিভ্রান্ত, বিরোধী দলের তীব্র আক্রমণ

ডিজিটাল আইডি পরিকল্পনায় পরিবর্তনকে আরেকটি ‘ইউ-টার্ন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির সমালোচনার মুখে তিনি দাবি করেছেন, সরকার তার মূল অবস্থান থেকে সরে আসেনি এবং ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থা আগের মতোই বহাল থাকবে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে জানা যায়, বিতর্কিত ডিজিটাল আইডি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাতিল করা হচ্ছে। কাজের অধিকার প্রমাণে নির্দিষ্ট একটি ডিজিটাল আইডি কার্ড দেখানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর পরিবর্তে পাসপোর্টের ডিজিটাল চিপ বা ই-ভিসার মতো অন্যান্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র ব্যবহারের সুযোগ রাখা হচ্ছে।

ডাউনিং স্ট্রিট এই পরিবর্তনকে ‘কারিগরি সংশোধন’ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও বাস্তবে এতে পরিকল্পনার একমাত্র বাধ্যতামূলক উপাদানটি বাদ পড়েছে। ফলে পুরো ডিজিটাল আইডি স্কিমের কার্যকারিতা ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মত দিচ্ছেন সমালোচকরা।

বুধবার এক সম্প্রচার সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, যাচাই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। তার ভাষায়, “মানুষকে অবশ্যই যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। সেই যাচাই হবে ডিজিটাল এবং তা বাধ্যতামূলক।” তিনি জানান, এখন কেবল যাচাইয়ের কাঠামো ও পদ্ধতি নিয়ে পরামর্শ চলছে।

ইউ-টার্নের অভিযোগ প্রসঙ্গে স্টারমার বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য অবৈধভাবে কাজ করা বন্ধ করা। তিনি বলেন, দেশে অনেক মানুষ অবৈধভাবে কাজ করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই প্রবণতা ঠেকাতেই সরকার ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছে।

এর আগে হাউস অব কমন্সে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক সরকারকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন। তিনি ডিজিটাল আইডিকে “একটি বাজে নীতি” বলে উল্লেখ করে বলেন, সরকারের কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই এবং স্টারমার বারবার সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছেন।

চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস অবশ্য পরিবর্তনটির গুরুত্ব কমিয়ে দেখান। তার মতে, কাজের জন্য ডিজিটাল পরিচয় দেখানো বাধ্যতামূলক থাকলেই যথেষ্ট—তা আলাদা ডিজিটাল আইডি কার্ড হোক বা ই-ভিসা কিংবা ই-পাসপোর্ট, এতে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।

ব্যবসা বিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইলও একই সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের বায়োমেট্রিক তথ্য তাদের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, যাতে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কাজের যোগ্যতা যাচাই করতে পারে। তার ভাষায়, ২০২৯ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থা চালু হলে ডিজিটাল আইডি অবকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর থাকবে।

সব মিলিয়ে ডিজিটাল আইডি পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। সরকার যেখানে এটিকে বাস্তবসম্মত সমন্বয় হিসেবে দেখছে, সেখানে বিরোধীদের দাবি—এটি নেতৃত্বের দুর্বলতা ও নীতিগত দোদুল্যমানতার আরেকটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে স্কিল্ড ওয়ার্কারদের১৫ বছর অপেক্ষা, ছয়বার ভিসা নবায়ন—নতুন পরিকল্পনায় দিশাহারা অভিবাসীরা

মাদকবিরোধী অভিযানে যুক্তরাজ্য জুড়ে আটক ১৫০০

টিউলিপ সিদ্দিকীর রাজনীতির হাতেখড়ি এক স্বৈরশাসকের হাতে