তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে পানির চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের কেন্ট এলাকায় ভয়াবহ পানি সংকট দেখা দিয়েছে। হাজারো পরিবার এখনো ট্যাপের পানি ছাড়াই দিন কাটাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে বোতলজাত পানি সরবরাহ কেন্দ্র চালু এবং ট্যাংকারের মাধ্যমে নেটওয়ার্কে পানি সরবরাহ করছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাজ্যের পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সাউথ ইস্ট ওয়াটার জানিয়েছে, হুইটস্টেবল এলাকায় প্রায় ৮ হাজার গ্রাহক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, আশপাশের জলাধারগুলোর পানির স্তর “সংকটজনক পর্যায়ে” নেমে গেছে এবং অতিরিক্ত চাহিদার কারণে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
এছাড়া ট্যাঙ্কারটন, অ্যাশফোর্ড ও আশপাশের এলাকায় আরও প্রায় ৭ হাজার পরিবার কম চাপের পানি অথবা অনিয়মিত সরবরাহের মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে আরও ৭ হাজার পরিবার নতুন করে পানি সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সাউথ ইস্ট ওয়াটারের অপারেশনস কন্ট্রোল প্রধান ম্যাথিউ ডিন জনগণকে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কাজে পানি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পান করা, রান্না এবং ধোয়া-মোছার মতো জরুরি কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজে পানি ব্যবহার না করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জনগণকে জেট ওয়াশার, হোস পাইপ, শিশুদের পানির পুল ও বাগানের স্প্রিংকলার ব্যবহার বন্ধ রাখারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শুক্রবারের পর থেকে কিছু এলাকায় ধীরে ধীরে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে। তবে পুরো সপ্তাহজুড়ে সরবরাহ অনিয়মিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
সমস্যাটি দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সোমবার যেখানে মাত্র ২৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল, কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে।
সাউথ ইস্ট ওয়াটার দাবি করেছে, গরম আবহাওয়ার জন্য তারা আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে পানির ব্যবহার এতটাই বেড়ে যায় যে পানি পরিশোধন ও সরবরাহ ব্যবস্থা চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ব্যাংক হলিডে সোমবার তাদের সেবা এলাকায় মোট ৬৭০ মিলিয়ন লিটার পানি ব্যবহার হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১০০ মিলিয়ন লিটার বেশি।
এদিকে পানি সংকটের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব নিয়েও নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে সাউথ ইস্ট ওয়াটারের প্রধান নির্বাহী ডেভ হিন্টন পদত্যাগ করেন। তার এক সপ্তাহ আগেই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানও সংসদ সদস্যদের চাপের মুখে দায়িত্ব ছাড়েন।
গত বছরের শেষ দিকে টানব্রিজ ওয়েলস এলাকায় রাসায়নিক সমস্যার কারণে হাজারো মানুষ প্রায় দুই সপ্তাহ বিশুদ্ধ পানির বাইরে ছিল। সেই ঘটনার পর ডেভ হিন্টন ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি ২০২৬ সালের কোনো বোনাস গ্রহণ করবেন না।
পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক কমিটির এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটিকে “সঠিক নেতৃত্বহীন” এবং “সাংগঠনিক সমস্যায় জর্জরিত” বলে উল্লেখ করা হয়। বর্তমান সংকটের পর সেই সমালোচনা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

