TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যে দ্রুত বহিষ্কারের ব্যবস্থা রেখে—রাজা চার্লসের ভাষণে নতুন অভিবাসন বিলের ঘোষণা

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও আশ্রয় ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। পার্লামেন্টের স্টেট ওপেনিং অনুষ্ঠানে রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাষণের মাধ্যমে নতুন “ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিল” আনার পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, নতুন এই আইন “কঠোর কিন্তু ন্যায্য” অভিবাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনবে।
সরকারি ব্যাখ্যামূলক নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রকাশিত “রিস্টোরিং অর্ডার অ্যান্ড কন্ট্রোল” নীতির আলোকে এই বিল তৈরি করা হচ্ছে। এটিকে এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় আশ্রয়নীতির সংস্কার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
নতুন বিলে আশ্রয় ব্যবস্থা পুনর্গঠন, মানবাধিকার আইনের আর্টিকেল এইটের প্রয়োগ সীমিত করা, নতুন স্বাধীন আপিল সংস্থা গঠন এবং অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের দ্রুত বহিষ্কারের মতো কঠোর পদক্ষেপ রাখা হয়েছে।
সরকার বলছে, ২০২১ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদন ৭৪ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বৃদ্ধি ছিল ২৬ শতাংশ। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার লাখ আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে। বর্তমানে প্রায় এক লাখ সাত হাজার আশ্রয়প্রার্থী সরকারি সহায়তায় রয়েছেন এবং গত বছর এসব খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ বিলিয়ন পাউন্ড।
নতুন আইনের আওতায় বর্তমানের বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে একক “কোর প্রোটেকশন” মডেল চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এতে আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত হবে, আইনি জটিলতা কমবে এবং শরণার্থীদের কর্মসংস্থানে উৎসাহ দেওয়া যাবে।
এছাড়া শরণার্থী মর্যাদা স্থায়ী না রেখে আরও সীমিত ও শর্তসাপেক্ষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার বলছে, যারা নিজ দেশে আর ঝুঁকিতে নেই বা যুক্তরাজ্যের আইন ভঙ্গ করবে, তাদের সুরক্ষা বাতিল করা যেতে পারে।
একইসঙ্গে সরকারি সহায়তায় থাকা আশ্রয়প্রার্থীদের পরবর্তীতে আয়ক্ষম হলে করদাতাদের ব্যয়ের একটি অংশ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলে বর্তমান ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালের পরিবর্তে নতুন স্বাধীন আপিল সংস্থা গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। সরকার বলছে, এই সংস্থা দ্রুত ও কার্যকরভাবে আপিল নিষ্পত্তি করবে এবং যাদের আবেদন খারিজ হবে, তাদের দ্রুত বহিষ্কারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
সব ধরনের আপিল শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিক জোরপূর্বক বহিষ্কারের ক্ষমতাও বাড়ানো হবে। একইসঙ্গে বয়স কম দেখিয়ে আশ্রয় পাওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে বয়স যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আর্টিকেল এইট প্রয়োগ সীমিত করার পরিকল্পনা
সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের আর্টিকেল এইট-এর প্রয়োগ কঠোর করা। এই ধারা ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের অধিকার নিশ্চিত করে।
সরকারের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা “ফ্যামিলি লাইফ” বা পারিবারিক জীবনের অধিকার দেখিয়ে বহিষ্কার ঠেকিয়ে দিচ্ছেন। এজন্য “পরিবার” এর সংজ্ঞা সীমিত করে কেবল স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তান পর্যন্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহিষ্কারের অপেক্ষায় আটক থাকা যেসব ব্যক্তি মানবাধিকারভিত্তিক আবেদন করেছিলেন, তাদের ৮৬ শতাংশ মুক্তি পেয়েছিলেন।
আধুনিক দাসত্ব আইনেও পরিবর্তন
নতুন বিলের মাধ্যমে আধুনিক দাসত্ব সংক্রান্ত আইনও সংস্কার করা হবে। সরকার বলছে, এই ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করতে আইনি কাঠামো আরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে দেরিতে মানবপাচার বা আধুনিক দাসত্বের শিকার হওয়ার দাবি তোলার কারণে যে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়, তা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিতর্কের আশঙ্কা
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সীমান্তে “শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ” ফিরিয়ে আনা জরুরি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আর্টিকেল ৮ সীমিত করা এবং আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকারে কড়াকড়ি আরোপের কারণে মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন আইনজীবীদের পক্ষ থেকে তীব্র বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
সূত্রঃ ই আই এন
এম.কে

আরো পড়ুন

ইসরায়েলের হামলা নিয়ে ইরানের ভিন্ন তথ্য

ট্রাম্পের চাপে লেবাননের সঙ্গে আলোচনায় সম্মত নেতানিয়াহু, হামলা অব্যাহত

যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হচ্ছে রোবট ম্যাসাজ, খরচ কম আর ঝামেলাহীন