লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের প্রতি সমর্থন প্রদর্শনকারীদের বিরুদ্ধে আবারও গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হবে। এর আগে হাই কোর্টের রায়ের পর তারা সাময়িকভাবে এই ধরনের গ্রেপ্তার বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল।
পুলিশ জানায়, আদালতের রায়ের পরপরই যে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, তা ছিল একটি অস্থায়ী সিদ্ধান্ত। পরবর্তীতে পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করে তারা আবারও আইন প্রয়োগে কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি সহকারী কমিশনার জেমস হারম্যান বলেন, হাই কোর্ট সংগঠনটির ওপর নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ ঘোষণা করলেও সেই রায়ের কার্যকারিতা এখনই শুরু হচ্ছে না। সরকারের আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ফলে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন জানানো এখনো আইনত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান আইন অনুযায়ীই আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে, ভবিষ্যতে কী হতে পারে তা নয়।”
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। আগামী ২৮ ও ২৯ এপ্রিল কোর্ট অব আপিলে এই আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ততদিন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
পুলিশ জানায়, আদালতের রায়ের দিনই আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সমর্থকদের বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। পরে সবদিক বিবেচনা করে আবারও গ্রেপ্তার কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস দাবি করেছে, তাদের আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দুই হাজার পাঁচশোর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আরও জানায়, গত ১৫ মার্চ এক নারীকে শুধু একটি প্ল্যাকার্ড বহনের কারণে আটক করা হয়, যেখানে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা হয়েছিল।
এছাড়া, প্যালেস্টাইন অ্যাকশন-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বন্দি, যারা কারাগারে অনশন করেছিলেন, তারা চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। লন্ডনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অনশনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন অনশনের পরও তারা যথাযথ চিকিৎসা পাননি এবং এখনো বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এক সরকারি মুখপাত্র বলেন, বন্দিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, হার্ট মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

