28.5 C
London
July 15, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাতির হাতে দাদি হত্যাঃ মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে প্রশ্ন

পরিবারের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় বলে বিবেচিত নিজের বাড়িতেই নাতির হাতে প্রাণ হারিয়েছেন এক বৃদ্ধা। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির দাদিকে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত নতুন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সময়মতো মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও ঝুঁকি মূল্যায়ন নিশ্চিত করা গেলে হয়তো এই মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো সম্ভব ছিল। একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রেও এক তরুণ তার দাদিকে হত্যা করার পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবারে মানসিক অসুস্থতা বা মাদকাসক্তির লক্ষণকে অবহেলা করলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যে ৮০ বছর বয়সী ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত সোমতেরা বিবিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তার ৩৪ বছর বয়সী নাতি, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুবেল আলী। ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে তাকে একটি মানসিক স্বাস্থ্য ইউনিট থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে, সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত সুবেল আলীর অতীতে সহিংস আচরণ এবং মানুষকে ছুরিকাঘাতের হুমকি দেওয়ার একাধিক রেকর্ড ছিল। তা সত্ত্বেও তার ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করেই তাকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে পরিচালিত তদন্তে করোনার মত দেন, চিকিৎসক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ঝুঁকি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হলে বৃদ্ধা সোমতেরা বিবির মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতে পারত বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যে। সেখানে ১৯ বছর বয়সী ওয়ায়াট টেস্টারম্যান তার ৭৪ বছর বয়সী দাদি শেরি অলিভারকে নির্মমভাবে মারধর করে হত্যা করেন। তদন্তে জানা যায়, ওই তরুণ দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর মাদকাসক্তিতে ভুগছিলেন। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দাদি নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। কিন্তু মাদকাসক্তি ও মানসিক অস্থিরতার লক্ষণ ক্রমেই বাড়লেও কার্যকর চিকিৎসা বা সামাজিক হস্তক্ষেপের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত সেই অবহেলার পরিণতি দাঁড়ায় একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুই ঘটনা ভিন্ন দেশে ঘটলেও তাদের মধ্যে একটি বড় মিল রয়েছে—উভয় ক্ষেত্রেই বিপদের একাধিক সতর্কসংকেত আগে থেকেই ছিল, কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও পরিবারের পক্ষ থেকে যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

তাদের মতে, পরিবারের কোনো সদস্য যদি গুরুতর মানসিক অসুস্থতা, সহিংস আচরণ বা মাদকাসক্তিতে ভোগেন এবং তিনি কোনো বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করেন, তাহলে বিষয়টিকে কখনোই সাধারণ পারিবারিক সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রয়োজনে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অথবা সংশ্লিষ্ট সামাজিক সুরক্ষা সংস্থার সহায়তা নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, বয়স্ক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু পরিবারের সচেতনতা নয়, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সহায়তা এবং ঝুঁকি মূল্যায়নের কার্যকর সমন্বয়ও অত্যন্ত জরুরি। তাদের মতে, সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রেই এমন হৃদয়বিদারক পারিবারিক ট্র্যাজেডি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

ভারতে ৩০% ট্যাক্সের মাধ্যমে বৈধ হচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সি

বিলেতের বাহিরে থেকে প্রপার্টি মার্কেটে বিনিয়োগ করা

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে ধনকুবেরদের অশ্লীল উত্থানঃ ৫০ পরিবারই ধরে রেখেছে অর্ধেক দেশের সম্পদ