TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বিচারকরা মৃত্যুর হুমকি পাচ্ছেনঃ প্রধান নারী বিচারপতি

যুক্তরাজ্যের প্রধান নারী বিচারপতি আবারও বিচারকদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আজ যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্যদের তিনি জানিয়েছেন, তার কিছু বিচারক তাদের রায়ের উপর ভিত্তি করে ‘ভুল প্রতিবেদনের’ ফলে বাড়ির সামনে হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন।

ওয়াল্টন-অন-দ্য-হিলের ব্যারোনেস ক্যার গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের জানান, তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রশ্নোত্তর পর্বে স্যার কেয়ার স্টারমার এবং কেমি ব্যাডেনোকের আলোচনা শুনে। আলোচনাটি ছিল গাজার একটি শরনার্থী পরিবারের বিষয়ে। যাদের ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের জন্য নির্ধারিত একটি পরিকল্পনার আওতায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচারক ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন ওই পরিবারকে যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতি দিয়ে।
আজ হাউস অব লর্ডসের সংবিধান কমিটির সামনে প্রধান নারী বিচারপতিকে আবারও এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।
প্রধান নারী বিচারপতি বলেন, ‘এটি বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেউ কখনো বলেনি বা দাবি করেনি, সংসদের ভেতরে ও বাইরে শক্তিশালী ও সুস্থ বিতর্ক হওয়া উচিত নয়। এমনকি রায়ের সমালোচনাও যদি প্রয়োজন হয়। তবে বিচার প্রক্রিয়া ও বিচারিক স্বাধীনতা অবশ্যই সম্মান করা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, যদি কোনো রায় ভুল হয়, তাহলে আপিল করা যায়। আর যদি আইন ভুল হয়, তবে সংসদের ক্ষমতা রয়েছে আইন পরিবর্তন করার।
প্রধান নারী বিচারপতি ‘ভুল প্রতিবেদনের’ বিপজ্জনক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছেন
তিনি বলেন, ‘তথ্যের ভিত্তিতে বিতর্ক হওয়া উচিত, ভুল ধারণার ভিত্তিতে নয়—এটি উন্মুক্ত বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে, কোনো রায়ের সমালোচনা বা বিতর্ক করা এক বিষয়, কিন্তু ভুল প্রতিবেদন প্রকাশ করা এবং এমন এক বিচারককে অপব্যবহার করা, যিনি নিজের পক্ষে কথা বলতে পারেন না, সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান বজায় রাখার প্রেক্ষাপটে আমার উদ্বেগের মূল কারণ হলো ভুল প্রতিবেদনের ফলে সৃষ্ট বিপদ।’
তিনি কমিটিকে আরও জানান, ভুল শিরোনাম ও অতিরঞ্জিত প্রচারণার কারণে বিচারকদের বাড়ির সামনে হয়রানি করা হয়েছে এবং তারা মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন, যার ফলে তাদের পরিবার ভয়ের মধ্যে জীবনযাপন করছে।
প্রধান নারী বিচারপতি বলেন, ‘আমি প্রতিবেদনের স্বাধীনতা এবং সমালোচনাকে স্বাগত জানাই, তবে আমি প্রথম দিন থেকেই যা চেয়ে আসছি, তা হলো ন্যায়সংগত, নিরপেক্ষ এবং সঠিক রিপোর্টিং। এটি বিতর্ক বন্ধ করার বিষয় নয়; বিতর্ক অবশ্যই খোলা থাকা উচিত। আদালত সিদ্ধান্ত নেবে কোনো রায় ভুল কি না। তবে এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়—যেহেতু আমাকে আমার বিচারকদের সুরক্ষা প্রদান করতে হবে—তারা এমন মন্তব্য ও প্রতিবেদনের শিকার হবেন, যা তাদের জীবনকে ধ্বংস করে দেয়।’
প্রধান নারী বিচারপতি আরও বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে পছন্দ করেন না, তবে তার বিচারকদের রক্ষা করা তার দায়িত্ব।
সর্বশেষ যুক্তরাজ্যের বিচারকদের মনোভাব সংক্রান্ত জরিপ (UK Judicial Attitude Survey) অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ১০ জন বিচারকের মধ্যে ৪ জন তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
সূত্রঃ দ্য গ্যাজেট
এম.কে
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের স্কুলে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধের আইন কার্যকরী হয়েছে

নিউজ ডেস্ক

‘মুরগির দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ব্রেক্সিট দায়ী’

ইংল্যান্ডের স্কুলে দাঙ্গা

নিউজ ডেস্ক