যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের করা আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদনের সংখ্যা গত এক বছরে ৩০ শতাংশ কমেছে। দেশটির সরকার বলছে, শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে নেওয়া ধারাবাহিক কঠোর পদক্ষেপের ফলেই এই উল্লেখযোগ্য হ্রাস এসেছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদানের নাগরিকদের জন্য শিক্ষার্থী ভিসা প্রদান স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি, তাদের সরাসরি সতর্কবার্তা পাঠিয়ে ভিসার শর্ত মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবহার করে আশ্রয় আবেদন করার প্রবণতা কমেছে।
এদিকে শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার আরও কঠোরভাবে দমন করতে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে। নতুন নীতির আওতায় যেসব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান দায়িত্বশীলভাবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিদেশি শিক্ষার্থী নিয়োগের অধিকার সীমিত করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে ঝরে পড়লে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি থেকে নিষিদ্ধও করা হতে পারে।
হোম অফিস নতুন বার্ষিক স্পনসরশিপ মূল্যায়ন ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আরও কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। এর আওতায় শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের নিচে রাখতে হবে। পাশাপাশি ভর্তি হওয়ার হার কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ এবং কোর্স সম্পন্ন করার হার অন্তত ৯০ শতাংশ নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সূচক পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে।
সরকার আরও জানিয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য নতুন “ট্রাফিক-লাইট” মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এই ব্যবস্থায় নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলো “রেড” বা লাল রেটিং পাবে এবং তাদের নিজস্ব অর্থায়নে ১২ মাসের বাধ্যতামূলক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
যুক্তরাজ্য সরকারের মতে, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা, প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ করা। তবে শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্টদের একাংশের আশঙ্কা, অতিরিক্ত কঠোর নিয়ম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সূত্রঃ দ্য সান
এম.কে

