28.4 C
London
July 5, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ভিসা নীতির আকস্মিক পরিবর্তনে বিপাকে ২৬ লাখ বৈধ অভিবাসী

যুক্তরাজ্যের ভিসা ও স্থায়ী বসবাসের (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন—আইএলআর) নিয়মে সরকারের বড় ধরনের পরিবর্তনে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন দেশটিতে বৈধভাবে বসবাসরত লাখো অভিবাসী। নতুন নীতির আওতায় বহু দক্ষ কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা দ্বিগুণ করা হয়েছে। এতে ২০২১ সালের পর যুক্তরাজ্যে আসা প্রায় ২৬ লাখ বৈধ অভিবাসী সরাসরি প্রভাবিত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অভিবাসীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা যুক্তরাজ্যে আসার সময় বিদ্যমান নিয়ম অনুসারে বৈধভাবে পাঁচ বছর বসবাসের পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (আইএলআর) পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু সরকারের নতুন অভিবাসন সংস্কারের ফলে অনেক দক্ষ পেশাজীবীর জন্য সেই সময়সীমা ১০ বছরে উন্নীত করা হয়েছে। আর সোশ্যাল কেয়ার খাতে কর্মরত অনেকের ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ১৫ বছর পর্যন্ত।

এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বহু অভিবাসী বলছেন, তারা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—চাকরি, বাড়ি কেনা, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং আর্থিক পরিকল্পনা—পাঁচ বছরের নিয়মকে ভিত্তি করেই নিয়েছিলেন। এখন হঠাৎ করে নিয়ম পরিবর্তন করায় তাদের পরিকল্পনা ভেঙে পড়েছে এবং তারা দীর্ঘমেয়াদি আইনি ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলো সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, সরকার কার্যত “খেলা চলাকালীন নিয়ম বদলে দিয়েছে”। অর্থাৎ, পুরোনো নিয়মের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যে আসা মানুষদের ক্ষেত্রেও নতুন কঠোর শর্ত প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা তারা অন্যায্য ও অযৌক্তিক বলে মনে করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নীতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি এবং উচ্চশিক্ষা খাতে। কারণ এসব খাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক দক্ষ কর্মী দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে না চেয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে এমনিতেই জনবল সংকটে থাকা বিভিন্ন খাত আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।

অভিবাসী সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি না পাওয়ায় অনেক পরিবার বাড়তি ভিসা ফি, স্বাস্থ্যসেবা সারচার্জ, আইনি ব্যয় এবং অন্যান্য প্রশাসনিক খরচ বহন করতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার কারণে তাদের মানসিক চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

সরকারের পক্ষ থেকে এই কঠোর পদক্ষেপকে অভিবাসন ব্যবস্থায় সংস্কারের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, যারা বিদ্যমান নিয়মের ওপর আস্থা রেখে যুক্তরাজ্যে এসেছেন, তাদের ক্ষেত্রে পূর্বের শর্ত বহাল রাখা উচিত ছিল। অন্যথায় এটি বৈধ অভিবাসীদের প্রতি অবিচার এবং যুক্তরাজ্যের প্রতি আন্তর্জাতিক দক্ষ জনশক্তির আস্থা কমিয়ে দেবে।

নতুন নীতিকে কেন্দ্র করে অভিবাসী সংগঠন, বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠী এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলো সরকারের কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, পূর্ববর্তী নিয়মের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যে আসা বৈধ অভিবাসীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা না হলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব দেশটির অর্থনীতি, শ্রমবাজার এবং আন্তর্জাতিক দক্ষ কর্মী আকর্ষণের সক্ষমতার ওপর পড়বে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

দুই-সন্তান ভাতা সীমা তুলে নিলে দারিদ্র্য কমবে—বাজেটের আগে যুক্তরাজ্যে মায়েদের জোর দাবি

ব্রেক্সিট: ডেইরি মিল্কের উৎপাদন জার্মানি থেকে ইউকেতে স্থানান্তর করবে ক্যাডবেরি

অনলাইন ডেস্ক

‘রিপ-অফ ডিগ্রি’ বিতর্কঃ ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০০ কোর্স নিয়ে তোলপাড়