অভিবাসীদের জাতীয়তা অনুযায়ী অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। লেবার সরকারের বিচার মন্ত্রণালয় ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের দণ্ডাদেশের তথ্য প্রকাশের নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করেছে। বিরোধীরা অভিযোগ করছে, সরকার অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধের প্রকৃত চিত্র জনসমক্ষে আসা ঠেকাতে চাইছে। তবে সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে তথ্য প্রকাশে ব্যয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি সামনে এনেছে।
বিষয়টি সামনে আসে যখন অভিবাসনবিষয়ক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর মাইগ্রেশন কন্ট্রোল (CMC) তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সহিংসতা, যৌন অপরাধ, মাদক, অগ্নিসংযোগ, সম্পত্তি নষ্ট, অস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধ, চুরি ও ডাকাতির মতো মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তদের জাতীয়তাভিত্তিক তথ্য চায়।
তথ্য কমিশনারের দপ্তর বিচার মন্ত্রণালয়কে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দেয়। তবে বিচার মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব তথ্য প্রস্তুত করতে গেলে তথ্য অধিকার আইনের নির্ধারিত £৬০০ ব্যয়সীমা অতিক্রম করবে এবং খুব কম সংখ্যক ব্যক্তির তথ্য প্রকাশ করা হলে তাদের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
তবে তথ্য কমিশনার ব্যয়ের যুক্তি যথেষ্ট প্রমাণিত হয়নি বলে তা প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে কমিশনার নির্দেশ দেন, গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে পাঁচজনের কম সংখ্যক তথ্য প্রকাশ না করলেও পাঁচ বা তার বেশি সংখ্যার তথ্য প্রকাশ করা যেতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরকার ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছে। ফলে তথ্য প্রকাশের বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
এদিকে নতুন শিক্ষা সচিব লুসি পাওয়েল অভিবাসন সংকট নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যকে “ডগ হুইসেল” বা নির্দিষ্ট ভোটারগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে দেওয়া রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে, সিএমসি দাবি করেছে, তথ্য প্রকাশ করা হলে এটি হবে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে অভিবাসীদের অপরাধসংক্রান্ত সবচেয়ে বিস্তৃত সরকারি তথ্য প্রকাশ। সংস্থাটি সরকারের আপিলের বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সিএমসির গবেষণা পরিচালক রবার্ট বেটস অভিযোগ করে বলেন, সরকার জনগণের কাছ থেকে বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে রিফর্ম ইউকে দলের চেয়ারম্যান জিয়া ইউসুফ দাবি করেন, কনজারভেটিভ ও লেবার—উভয় দলই তাদের অভিবাসন নীতির প্রভাব গোপন রাখতে চায়। তাঁর ভাষায়, জনগণের এই তথ্য জানার অধিকার রয়েছে এবং সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি এমন তথ্য অবিলম্বে প্রকাশ করতেন।
তবে উল্লেখ্য, সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বিরোধী দল ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বক্তব্য রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ। তথ্য প্রকাশ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।
সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস
এম.কে

