14 C
London
March 4, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে মুসলিম ভোটে ভরসা হারালে ক্ষমতা টিকবে নাঃ স্টারমারের জন্য বড় সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলা সমর্থনে অনীহা দেখানোর পেছনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-এর মুসলিম ভোটারদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা কাজ করতে পারে। এ মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনেছে ব্রিটেনে মুসলিম ভোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব।

 

ব্রিটিশ ইলেকশন স্টাডির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রায় ৮০ শতাংশ মুসলিম ভোটার লেবার পার্টি-কে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই সমর্থনে বড় ধরনের ভাঙন দেখা যায়। যেসব আসনে মুসলিম জনসংখ্যা অন্তত ১০ শতাংশ, সেখানে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে লেবারের ভোট ১২ শতাংশ পয়েন্ট কমে যায়—যেখানে জাতীয়ভাবে দলটির ভোট সামান্য বেড়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলের প্রতি ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান মুসলিম ভোটারদের বড় একটি অংশকে হতাশ করে। একইসঙ্গে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্তও এই ভোট সরে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে।

ম্যানচেস্টারের গর্টন অ্যান্ড ডেন্টন উপনির্বাচনে গ্রিন পার্টির জয় লেবারের জন্য আরও সতর্ক সংকেত হয়ে এসেছে। ওই আসনে প্রায় ২৮ শতাংশ ভোটার মুসলিম। নির্বাচনে গ্রিন পার্টির পক্ষে গাজা ইস্যুকে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। দলটির নেতা জ্যাক পোলানস্কি গাজায় ইসরায়েলের পদক্ষেপকে ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন। ফলাফল হিসেবে লেবারের ভোট প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।

২০২৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম অধ্যুষিত ১১১টি আসনে স্বাধীন প্রার্থী ও প্রো-প্যালেস্টাইন ওয়ার্কার্স পার্টি অব ব্রিটেন-এর পক্ষে পাঁচ লাখের বেশি ভোট পড়ে। এর আগে রচডেল উপনির্বাচনে জর্জ গ্যালাওয়ে গাজা ইস্যুকে কেন্দ্র করে জয়ী হন, যদিও পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে আসনটি ধরে রাখতে পারেননি।

লেবার চারটি আসন হারায় স্বাধীন প্রার্থীদের কাছে। বার্মিংহাম পেরি ব্যারে খালিদ মাহমুদ এবং ব্ল্যাকবার্নে কেট হোলার্ন প্রো-গাজা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হন। একই সময়ে সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইজলিংটন নর্থ আসন পুনরুদ্ধার করেন। পরে তিনি জারাহ সুলতানাকে সঙ্গে নিয়ে নতুন দল গঠন করেন, যা সাম্প্রতিক এক জরিপে চারটি আসন পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ডিসেম্বরে পরিচালিত এক আসনভিত্তিক জরিপে দেখা যায়, গ্রিন পার্টি ৫২টি আসন পেতে পারে। তবে গর্টন অ্যান্ড ডেন্টনের ফল সারাদেশে প্রতিফলিত হলে দলটির আসনসংখ্যা ২৪৯-এ পৌঁছাতে পারে—যার বড় অংশই লেবারের ক্ষতি থেকে আসবে।

সরকারের সামনের সারির নেতারাও ঝুঁকিতে আছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বার্মিংহাম লেডিউড আসনে ২০১৯ সালে ৮৩ শতাংশ ভোট পেলেও ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ৪০ শতাংশে। স্বাস্থ্য মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ইলফোর্ড নর্থ আসনে মাত্র ৫২৮ ভোটে জয়ী হন।

ইতিহাস বলছে, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরাক আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর মুসলিম ভোটারদের বড় অংশ লেবার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে গাজা ও ইরান ইস্যু সেই পুরোনো ক্ষত আবারও উন্মুক্ত করেছে।

সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৩৯ লাখ—যা ২০ বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট নির্বাচনী ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট এলাকায় কেন্দ্রীভূত ভোট বড় প্রভাব ফেলে। ফলে মুসলিম ভোটারদের অবস্থান বদল লেবারের জন্য নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে।

ক্যাবিনেট সদস্য ড্যারেন জোন্স ট্রাম্পের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে—মুসলিম ভোটে আস্থা ধরে রাখতে না পারলে স্টারমারের ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের শিশুদের খাওয়াবে ইউনিসেফ

নিউজ ডেস্ক

ইংল্যান্ডে স্কুলের মোবাইল ফোন নীতি শিক্ষক–কর্মীদের ওপর ‘বড় চাপ’—গবেষণা

গাজার শরণার্থী পরিবারকে যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার দেওয়ার রায় ভুল ছিলঃ কিয়ের স্টারমার