TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে মুসলিমবিদ্বেষের অভিযোগঃ মুসলিম কবরস্থানে পাশে কুকুরের মলত্যাগের অভিযোগ

যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের কির্কলিসে ইসলামোফোবিয়া ও মুসলিমবিদ্বেষ বৃদ্ধির অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। ধর্মীয় স্থাপনা ও কবরস্থানে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনার পর হাডার্সফিল্ড কাউন্সিল অব মসজিদস (HCoM) স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সংসদ সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সম্প্রতি অ্যালমন্ডবারির একটি মুসলিম কবরস্থানে স্থাপিত ধর্মীয় প্রার্থনার সাইনবোর্ডে ইসলামবিদ্বেষী গ্রাফিতি আঁকা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটিকে “জঘন্য ইসলামোফোবিক হামলা” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এর পরপরই মুসলিম নেতারা অভিযোগ করেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মুসলিমদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

হাডার্সফিল্ড কাউন্সিল অব মসজিদসের সেক্রেটারি ইমাম মোহাম্মদ আবুবকর বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সাইনবোর্ডটি ছিল শান্তি, স্মরণ ও মানবিকতার প্রতীক। এমন একটি বার্তার ওপর হামলা চালানো অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বৈরী বক্তব্য ও সামাজিক উত্তেজনা বাস্তব জীবনে বিদ্বেষমূলক আচরণকে উৎসাহিত করছে। ফলে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আগের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আহমেদ আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, কবরস্থানে মুসলিমদের কবরের পাশেই কিছু মানুষ নিয়মিত কুকুর নিয়ে এসে মলত্যাগ করান। এ কারণে অনেক পরিবার প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করতেও অস্বস্তি ও অনিরাপত্তা বোধ করছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বর্ণবাদ এখন শুধু সামাজিক মন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে হুমকির মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় মসজিদগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হয়েছে।

ইমাম আবুবকর জানান, আগে মসজিদের দরজা সবসময় খোলা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যস্ত সময়ে একমুখী নিরাপত্তা লক স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক সময় মসজিদের ভেতরে প্রায় ২০০ শিশু অবস্থান করে। তাই তাদের নিরাপত্তাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

গত ২০ জুলাই হাডার্সফিল্ড কাউন্সিল অব মসজিদস এক বিবৃতিতে ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, মুসলিমরা বহু প্রজন্ম ধরে কির্কলিস সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তারা যেন ভয়, ঘৃণা কিংবা হয়রানির আশঙ্কা ছাড়াই ধর্মীয় উপাসনা করতে, মসজিদে যেতে এবং স্বজনদের কবর জিয়ারত করতে পারেন—এটি নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

এদিকে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে ডিউসবেরি ইস্টের কাউন্সিলর এরিক বাটারওর্থের নামে পরিচালিত একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের পুরোনো পোস্ট প্রকাশের পর। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে প্রকাশিত বা শেয়ার করা কয়েকটি পোস্টের মধ্যে একটি ছবিতে লেখা ছিল, “From the English Channel to the North Sea, Make England ISLAM-FREE.”

এ ঘটনায় মুসলিম নেতারা বলেন, স্থানীয় রাজনীতিবিদদের এমন বক্তব্য বা পোস্ট মুসলিমদের মধ্যে উদ্বেগ, অনিরাপত্তা ও বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি তৈরি করে এবং সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর।

তবে কাউন্সিলর এরিক বাটারওর্থ পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়ে বলেন, পোস্টগুলো প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সেগুলো ব্যঙ্গাত্মক উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, তিনি এসব মতাদর্শে বিশ্বাস করেন না; তবুও পোস্টগুলো কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছেন।

কির্কলিস কাউন্সিলের নেতা সারা উড বলেন, কাউন্সিলের দায়িত্ব হলো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে তার অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

 

অন্যদিকে ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, অ্যালমন্ডবারির কবরস্থানে ভাঙচুরের ঘটনার পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

সবশেষে ইমাম মোহাম্মদ আবুবকর বলেন, তিনি এখনও আশাবাদী যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং কির্কলিসকে এমন একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবে, যেখানে ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে কেউ ভয় বা বৈষম্যের শিকার হবেন না।

সূত্রঃ ইয়র্কশায়ার লাইভ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের কিছু অংশে ভূমিকম্প

আইএসে যোগ দিতে সোমালিয়া যাওয়ার পথে ইতালীয় তরুণ গ্রেপ্তারঃ ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড

নিউজ ডেস্ক

সরকারের ব্যর্থ আশ্রয়নীতিঃ মানবিক সংকটে পরিণত হচ্ছে যুক্তরাজ্যের হোটেলগুলো