9.2 C
London
March 25, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যে লেবার এমপির স্বামী চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে গ্রেপ্তার

লেবার পার্টির এমপি জোয়ানি রিডের স্বামী ডেভিড টেলর চীনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে গ্রেপ্তার হয়েছেন। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ তাকে আটক করে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট-এর আওতায় হেফাজতে রেখেছে। একই সঙ্গে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধেও চীনা গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া অন্য দু’জন হলেন ম্যাথিউ অ্যাপলিন (৪৩) সাউথ ওয়েলসের পন্টিক্লুন এলাকার বাসিন্দা, এবং স্টিভ জোনস (৬৮) পাউইস থেকে। তিনজনের সবারই লেবার পার্টির সঙ্গে পূর্ববর্তী বা বর্তমান সম্পর্ক ছিল। লন্ডন, ইস্ট কিলব্রাইড ও কার্ডিফসহ একাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

ডেভিড টেলর বর্তমানে এশিয়া হাউস নামের একটি থিংক ট্যাংকের প্রোগ্রামস প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সংস্থাটি এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করে। তিনি অতীতে জ্বালানি খাতে লবিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং নিউ লেবার আমলে ওয়েলস অফিসে বিশেষ উপদেষ্টা ছিলেন।

জোয়ানি রিড ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইস্ট কিলব্রাইড ও স্ট্রাথাভেন আসন থেকে নির্বাচিত হন এবং বর্তমানে হাউস অব কমন্সের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য। স্বামীর গ্রেপ্তারের পর তিনি বলেন, “আমার স্বামী কোনো আইন ভেঙেছেন—এমন সন্দেহ করার মতো কিছু আমি কখনো দেখিনি।”

ম্যাথিউ অ্যাপলিন ওয়েলশ অ্যাসেম্বলিতে লেবার পার্টির সাবেক জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম এবং ওয়েলসের পাবলিক সার্ভিসেস অম্বাডসম্যানের কার্যালয়ে কাজ করেছেন। সম্প্রতি তিনি কার্ডিফভিত্তিক জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান ক্যামলাস-এ জ্যেষ্ঠ পরামর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোড্রি অ্যাব ওয়েন জানান, অ্যাপলিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কোনো চীনা কোম্পানি বা সরকারের সম্পর্ক নেই।

স্টিভ জোনস ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার-এর সময় প্রধান হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী হিলারি আর্মস্ট্রং—বর্তমানে ব্যারোনেস আর্মস্ট্রং—এর বিশেষ উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি ডাউনিং স্ট্রিট ও হাউস অব কমন্স—উভয় স্থানেই কাজ করেছেন। পরবর্তীতে ওয়েলশ সরকারের বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

নিরাপত্তা মন্ত্রী ড্যান জারভিস জানান, গ্রেপ্তারের বিষয়ে লন্ডন ও বেইজিংয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি হাউস অব কমন্সে বলেন, যুক্তরাজ্যের গণতন্ত্রকে লক্ষ্য করে চীনা রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট গোপন তৎপরতার একটি উদ্বেগজনক ধারা দেখা যাচ্ছে। বিদেশি হস্তক্ষেপের ঝুঁকি মোকাবিলায় থিংক ট্যাংক ও অলাভজনক সংস্থাগুলোর জন্য নতুন সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।

এশিয়া হাউস ১৯৯৬ সালে সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক পিটার ওয়েকফিল্ড প্রতিষ্ঠা করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক সংস্থাটির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার, সাবেক কনজারভেটিভ নেতা মাইকেল হাওয়ার্ড এবং সাবেক লেবার নেতা নিল কিনক।

জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলবিষয়ক যৌথ কমিটির চেয়ারম্যান ম্যাট ওয়েস্টার্ন সতর্ক করে বলেন, চীনের গোয়েন্দা তৎপরতা যুক্তরাজ্যের গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও ঘটনা সামনে আসতে পারে।

এর আগে লেবার পার্টি চীন-সম্পর্কিত একাধিক বিতর্কের মুখে পড়েছে। ক্রিস্টোফার ক্যাশ ও ক্রিস্টোফার বেরির বিরুদ্ধে পার্লামেন্ট থেকে গোপন তথ্য চুরি করে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কর্মকর্তাদের কাছে সরবরাহের অভিযোগ আনা হলেও বিচার প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। সরকার পরে স্বীকার করে, প্রসিকিউশন প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল এবং তা পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতি দেয়।

সাবেক পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান অ্যালিসিয়া কিয়ার্নস চীনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিষ্ক্রিয়তা দুর্বলতার বার্তা দেয়।

এদিকে, লন্ডনে চীনের নতুন সুপার-দূতাবাস নির্মাণের অনুমোদন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়।
লেবার পার্টি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইসরায়েলকে সৌদি আরব-আরব আমিরাতের কড়া বার্তা 

মানবপাচার ঠেকাতে তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়ার সাথে কাজ করবে ব্রিটেন

ইনকিউবেটর না পেয়ে ফয়েল পেপারে রাখা হচ্ছে গাজার নবজাতকদের