25.6 C
London
June 19, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত নয় রিফর্মঃ দলটিকে এখনো ‘প্রতিবাদী শক্তি’ বলেই দেখছেন বিশ্লেষকরা

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে জনপ্রিয়তা বাড়লেও নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম পার্টি এখনো সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত নয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের নানা বিতর্ক, অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ এবং প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা নতুন করে দলটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ জনগণের একাংশের মধ্যে প্রচলিত দুই প্রধান দল—লেবার ও কনজারভেটিভদের প্রতি অসন্তোষ রিফর্মের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। তবে জনপ্রিয়তা ও সরকার পরিচালনার যোগ্যতা এক বিষয় নয়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখিয়েছে, রিফর্ম এখনো একটি প্রতিবাদী রাজনৈতিক দল হিসেবেই বেশি পরিচিত, সরকার পরিচালনার বিকল্প শক্তি হিসেবে নয়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মেকারফিল্ড উপনির্বাচন। সেখানে লেবারের প্রার্থী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে শক্তিশালী অবস্থানে দেখা যাচ্ছে যিনি রিফর্ম পার্টির প্রার্থীকে হারিয়ে ভোটে জয়লাভ করেন। অথচ জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় আসনটি রিফর্মের জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল বলে মনে করা হচ্ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ব্যর্থতার অন্যতম কারণ দলটির প্রার্থী রবার্ট কেনিয়নকে ঘিরে বিতর্ক। নির্বাচনী প্রচারণার মাঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের সম্পর্কে তার পূর্বের আপত্তিকর মন্তব্য সামনে আসে। স্থানীয় পর্যায়ের জরিপে দেখা গেছে, বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে এসব মন্তব্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনককে লক্ষ্য করে প্রকাশিত একটি বিতর্কিত প্রচারণা বিজ্ঞাপন নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছে রিফর্ম। বিজ্ঞাপনটিতে ব্যাডেনকের বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে দলটির চেয়ারম্যান জিয়া ইউসুফ প্রকাশ্যে ওই বিজ্ঞাপনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বিতর্ক আরও বাড়ে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা রিফর্মের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের একটি অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে—দলটি প্রায়ই অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।

এর আগে অভিবাসন নীতি নিয়ে দলটির শীর্ষ নেতা রবার্ট জেনরিক ও চেয়ারম্যান জিয়া ইউসুফের মধ্যকার প্রকাশ্য মতবিরোধও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জেনরিকের বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউসুফ প্রকাশ্যে তাকে সংশোধন করেন। অনেকের মতে, বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে সমাধান করা সম্ভব হলেও তা প্রকাশ্যে এনে দলীয় ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কনজারভেটিভ পার্টি থেকে বেশ কয়েকজন পরিচিত রাজনীতিক রিফর্মে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রবার্ট জেনরিক, সুয়েলা ব্র্যাভারম্যান ও ড্যানি ক্রুগার। তবে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই নতুন যোগদানকারীদের সঙ্গে দলটির সম্পর্ক খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, কনজারভেটিভদের অন্তর্ভুক্ত করার মূল উদ্দেশ্য ছিল রিফর্মকে আরও দায়িত্বশীল ও মধ্যপন্থী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরা। কারণ অনেক ভোটারের কাছেই দলটির ভাবমূর্তি এখনো চরমপন্থী ও অগোছালো একটি সংগঠনের মতো।

রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের মতে, রিফর্মের দ্রুত উত্থানের পেছনে নাইজেল ফারাজের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে তিনি এখনো দলটিকে একটি সুসংগঠিত ও পেশাদার রাজনৈতিক কাঠামোয় রূপ দিতে পারেননি। ফলে দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং সরকার পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ রাজনীতিতে জনঅসন্তোষের মাত্রা বাড়তে থাকায় রিফর্ম এখনো জনমত জরিপে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বহু ভোটার কনজারভেটিভ ও লেবার—উভয় দলের প্রতি হতাশা থেকে বিকল্প শক্তি হিসেবে রিফর্মকে বিবেচনা করছেন।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সাধারণ নির্বাচন ঘনিয়ে এলে ভোটারদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসবে—তারা কি প্রতিবাদের বার্তা দিতে ভোট দেবেন, নাকি বাস্তবে দেশ পরিচালনার সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দেবেন?

এদিকে রুপার্ট লোয়ের নেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক দল ‘রিস্টোর’-এর উত্থানও রিফর্মের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কিছু ভোটার রিফর্মের পরিবর্তে আরও কট্টর প্রতিবাদী অবস্থানের দলগুলোর প্রতিও আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছেন।

সব মিলিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত অস্থির। লেবার পার্টির সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তন, কনজারভেটিভদের দুর্বল অবস্থান, গ্রিন পার্টির উত্থান এবং রিফর্মকে ঘিরে বিতর্ক—সবকিছু মিলিয়ে দেশটির রাজনীতি নতুন এক অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে এক মিলিয়নেরও বেশি বিদেশী নাগরিক বেনিফিট দাবি করছেন

সরকারের অনুদান যেভাবে দেওয়া হবে

যুক্তরাজ্যে সরকারি চুক্তিতে বাড়ছে ক্ষুদ্র ব্যবসার অংশঃ ২০২৮ সালের মধ্যে বড় অর্থপ্রবাহের ঘোষণা