28.5 C
London
July 15, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে স্পনসর বাতিল হলেই ৬০ দিনের কাউন্টডাউনঃ অনিশ্চয়তায় কেয়ার ওয়ার্কারদের জীবন

যুক্তরাজ্যের সামাজিক পরিচর্যা খাতে কর্মরত বিদেশি পরিচর্যা কর্মীদের জন্য নতুন করে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের স্পনসর অনুমোদন বাতিল হলে কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গেই ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অধিকার হারাচ্ছেন। একই সঙ্গে অন্য কোথাও অতিরিক্ত কাজ করে থাকলেও সেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতিও বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এক হাজার ৭১২টি স্পনসর অনুমোদন সাময়িক স্থগিত এবং এক হাজার ৫৪৫টি অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। কঠোর তদারকির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সামাজিক পরিচর্যা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো।

স্পনসর অনুমোদন বাতিল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভিসার মেয়াদ সাধারণত ৬০ দিনে নামিয়ে আনা হয়, অথবা ভিসার অবশিষ্ট মেয়াদ যদি এর চেয়ে কম থাকে, তবে সেই সময় পর্যন্ত বৈধ থাকে। যদিও অনেক ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় কর্মীরা নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজা বা অন্য ভিসা শ্রেণিতে আবেদন করার জন্য কিছু অতিরিক্ত সময় পান।

ইংল্যান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিচর্যা কর্মীদের সহায়তায় স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা বিভাগ বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। এর আওতায় ভিসার অবস্থা ও শ্রম অধিকার সম্পর্কে পরামর্শ, নতুন স্পনসর খুঁজে দেওয়ার চেষ্টা, চাকরি হারানোর কারণে আর্থিক সহায়তা সম্পর্কে তথ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে বাস্তবে নতুন স্পনসর পাওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন নিয়োগকর্তা পেলেও অনেক সময় স্পনসর সনদ বরাদ্দ না থাকায় আবেদন জমা দিতে দীর্ঘ বিলম্ব হয়। এই বরাদ্দ বাড়াতে অপেক্ষা করতে ১৮ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। দ্রুত অনুমোদনের জন্য প্রতিদিন ভোরে সীমিত সংখ্যক আবেদন গ্রহণ করা হয়, ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান সেই সুযোগও পান না।

এদিকে একটি অধিকারভিত্তিক সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এক বছরের মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার ৬২১ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশি পরিচর্যা কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও মাত্র ৯৪১ জন বৈধ স্পনসর প্রতিষ্ঠানে নতুন চাকরি পেয়েছেন। অর্থাৎ সফলতার হার ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। পূর্ব ইংল্যান্ড অঞ্চলে তিন হাজার ১১১টি আবেদন এলেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পান মাত্র ৮২ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি কর্মীদের নিজ উদ্যোগে চাকরির বিজ্ঞাপন, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট এবং সরকার অনুমোদিত স্পনসর প্রতিষ্ঠানের তালিকা যাচাই করে চাকরি খোঁজা অব্যাহত রাখা উচিত।

এদিকে সংকটের সুযোগ নিয়ে প্রতারণার আশঙ্কাও বেড়েছে। চাকরি দেওয়ার নামে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা দালাল চক্রের মাধ্যমে অর্থ দাবি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কর্মীদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, চাকরির বিনিময়ে কোনো ধরনের অর্থ প্রদান করা উচিত নয় এবং সন্দেহজনক প্রস্তাব পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় কর্মীরা কেবল সরকারি আবেদন ফি এবং প্রয়োজনে দ্রুত সেবা গ্রহণের অতিরিক্ত ফি বহন করতে পারেন। কিন্তু স্পনসর অনুমোদন, স্পনসর সনদ, প্রশাসনিক ব্যয় বা প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য খরচ কর্মীদের কাছ থেকে আদায় করা আইনসম্মত নয়।

বিদেশি পরিচর্যা কর্মীরা সরকারি ভাতা বা আবাসন সহায়তার মতো জনকল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণের অধিকারও সাধারণত পান না। ফলে চাকরি হারানোর পর নতুন স্পনসর খুঁজে পাওয়া পর্যন্ত অনেকেই চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। বিশেষ পরিস্থিতিতে এই শর্ত শিথিলের সুযোগ থাকলেও তা নির্ভর করে পৃথক আবেদন ও সরকারি বিবেচনার ওপর।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, স্পনসর অনুমোদন বাতিল হওয়া নিয়োগকর্তা ও সরকারের মধ্যকার বিষয়। এর ফলে কর্মীরা আগে যে কাজ করেছেন, সেই কাজের বেতন বা অন্যান্য আইনগত অধিকার বাতিল হয় না। বকেয়া বেতন, অবৈধভাবে মজুরি কেটে রাখা বা অন্যায় আচরণের শিকার হলে সংশ্লিষ্ট আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া যারা যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে অবস্থান অব্যাহত রাখতে চান, তাদের বর্তমান অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন আবেদন করতে হবে অথবা অন্য উপযুক্ত ভিসা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সুযোগ খুঁজতে হবে। অন্যথায় তারা অবৈধভাবে অবস্থানকারীর মর্যাদায় পড়ে যেতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

লেবার সরকার আসার পর বেড়েছে অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতারের হার

রিফর্ম ইউকে একটি ‘চরম-ডানপন্থী ও বর্ণবাদী দলঃ যুক্তরাজ্যের শিক্ষক ইউনিয়ন

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের প্রাক্তন কেবিন ক্রুর ভিসা বাতিল, ইউকে ছাড়ার নির্দেশ