যুক্তরাজ্যে অভিবাসন সংক্রান্ত কারণে হঠাৎ করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা বাড়ছে, যা ভুক্তভোগীদের দৈনন্দিন জীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলছে। আধুনিক সমাজে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে পড়ে যাওয়ার অর্থ হলো—বিল পরিশোধে অক্ষমতা, প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং পরিবার ও সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি।
এই ক্ষমতা প্রথম চালু হয় ২০১৪ সালের অভিবাসন আইনের মাধ্যমে, পরে ২০১৬ সালে তা আরও সম্প্রসারিত করা হয়। উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারির পর ২০১৮ সালে ব্যবস্থা স্থগিত থাকলেও ২০২৩ সালে পুনরায় তথ্য আদান-প্রদান শুরু হয়। এর ফলে ব্যাংকগুলোকে নিয়মিতভাবে গ্রাহকদের অভিবাসন স্ট্যাটাস যাচাই করতে হচ্ছে।
আইন অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় এবং পরবর্তীতে প্রতি তিন মাস অন্তর অভিবাসন যাচাই করতে হয়। তবে শুধু বৈধ অনুমতি না থাকলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্ট রাখার অযোগ্য হয়ে যায় না। এখানে মূল সিদ্ধান্তের ক্ষমতা থাকে হোম অফিস–এর হাতে।
প্রথম ধাপে হোম অফিস কাউকে ‘অযোগ্য ব্যক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে, অর্থাৎ যিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন, থাকার অনুমতি প্রয়োজন কিন্তু নেই এবং যাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা অনুচিত বলে বিবেচিত। এমন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম একটি ডেটাবেজে যুক্ত করা হয় এবং ব্যাংক তা শনাক্ত করলে হোম অফিসকে জানাতে বাধ্য হয়।
এরপর হোম অফিস তিনটি সিদ্ধান্তের যেকোনো একটি নিতে পারে—অ্যাকাউন্ট চালু রাখা, অ্যাকাউন্টের অর্থ জব্দ করা, অথবা অ্যাকাউন্ট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া। বন্ধের নির্দেশ এলে ব্যাংককে দ্রুত তা কার্যকর করতে হয় এবং গ্রাহককে লিখিতভাবে জানানো হয়।
তবে আইনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রয়েছে। যেসব ব্যক্তির অভিবাসন আবেদন বা আপিল বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের তথ্য ব্যাংকের সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়। আশ্রয়প্রার্থী ও মানবিক সুরক্ষার ভিত্তিতে আবেদনকারীরাও এই ব্যবস্থার বাইরে থাকেন। ফলে আবেদন চলমান থাকা সত্ত্বেও যদি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়, তা আইনের পরিপন্থী হতে পারে।
২০২৩ সালে প্রকাশিত সমতা প্রভাব মূল্যায়নে বলা হয়েছে, শিশুদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য নয়। আগে উইন্ডরাশ প্রজন্মকে সুরক্ষার জন্য বয়সভিত্তিক ছাড় থাকলেও বর্তমানে তা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিবন্ধকতা, গর্ভাবস্থা বা পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে ব্যতিক্রমী মানবিক কারণ থাকলে, কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে কাউকে ‘অযোগ্য’ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে।
ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান পাওয়া সাধারণত কঠিন, কারণ হোম অফিসের নির্দেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংক আইনত বাধ্য থাকে অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখতে। ভুক্তভোগীদের মূলত হোম অফিসের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় স্ট্যাটাস যাচাই, টেলিফোনে যোগাযোগ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করতে হয়।
যদি অভিযোগের মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর ‘অযোগ্য’ নন, তাহলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করা সম্ভব। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার আগেই এই নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে সিদ্ধান্ত বাতিলও করা যায়।
তবে ব্যাংক যদি পুনরায় অ্যাকাউন্ট খুলতে অস্বীকৃতি জানায়, সে ক্ষেত্রে ফিনান্সিয়াল ওমবাডসম্যান–এর কাছে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে সমতা আইন লঙ্ঘন বা সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করার অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পথও খোলা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের নামে ব্যাংকিং সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত যেন অযথা মানবিক সংকট তৈরি না করে—সেদিকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আরও সংবেদনশীল হওয়া জরুরি।
সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট
এম.কে

