ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নতুন সিদ্ধান্তে আফগানিস্তান, সুদান, মিয়ানমার ও ক্যামেরুনের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশেষ করে বহু নারী শিক্ষার্থী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার সুযোগ হারাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং হাজারো স্বপ্ন ভেঙে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ।
মর্যাদাপূর্ণ চিভনিং বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হওয়া আফগান সফটওয়্যার প্রকৌশলী শাহিরা সাদাত জানান, সাক্ষাৎকারের আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তিনি নতুন করে জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে জানানো হয়, তার আবেদন আর এগোবে না। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চিত করে তুলেছে।
ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র সচিব শাবানা মাহমুদ এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, কিছু শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষে আশ্রয় আবেদন করে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে “জরুরি ব্রেক” হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় এই অভিযোগ অতিরঞ্জিত এবং এটি বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত।
সুদানের দন্তচিকিৎসক আফরা এলমাহদি, যিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যান্সারবিষয়ক উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছিলেন, জানান—যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুত অবস্থার মধ্যেও তারা কঠোর পরিশ্রম করে এই সুযোগ অর্জন করেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত তাদের সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।
একইভাবে, সুদানের আরেক শিক্ষার্থী মারিয়াম (ছদ্মনাম) বলেন, নিজের দেশ পুনর্গঠনে অবদান রাখতে তিনি উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সামনে কোনো বিকল্প পথ নেই। দুর্বল অবকাঠামো ও সীমিত সম্পদের কারণে দেশে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আফগান শিক্ষার্থী সিতারা (ছদ্মনাম) জানান, তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নারীদের জন্য শিক্ষার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত তাদের শেষ আশাটুকুও কেড়ে নিয়েছে। তার ভাষায়, “তালেবান যেমন মেয়েদের পড়তে দেয় না, ব্রিটেনও এখন একই বার্তা দিচ্ছে।”
মিয়ানমারের শিক্ষার্থী ফিউ নিউ উইন বলেন, তার গবেষণা নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে। তিনি মনে করেন, বিদেশে পড়াশোনা করার সুযোগই এখন তাদের জন্য একমাত্র পথ। এই সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তরুণদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোর শিক্ষার্থীরা সাধারণত বিদেশে পড়াশোনা করে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজ দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চায়। তাই এই ধরনের সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে ওই দেশগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকেও বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা এখনো আশা করছেন, শেষ মুহূর্তে ব্রিটিশ সরকার তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। তাদের মতে, এই সুযোগ শুধু ব্যক্তিগত উন্নতির নয়, বরং নিজ দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

