19.1 C
London
September 21, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে কোণঠাসা যুক্তরাজ্যঃ ফকল্যান্ড হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা

 

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর যুক্তরাজ্যের সার্বভৌমত্ব নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয় ও মিত্রদের দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে ওয়াশিংটন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বিষয়ে তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে—এমন প্রতিবেদনের পর কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। লন্ডন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দ্বীপগুলো ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি ছিল, আছে এবং থাকবে।

২৯ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে স্কাই নিউজ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্যদের মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েও কাজ চলছে। এই বৃহত্তর প্রতিরক্ষা ব্যয়-ভাগাভাগির আলোচনার মধ্যেই ফকল্যান্ড ইস্যুটি নতুন করে সামনে এসেছে।

ডেইলি টেলিগ্রাফকে দেওয়া বক্তব্যে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাজ্যকে ‘বিশেষ নজরে’ রাখা হবে, কারণ দেশটির ‘অনেক সম্ভাবনা’ রয়েছে। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের প্রতিরক্ষা বোঝা ভাগাভাগি প্রত্যাশা করছে, তা নিশ্চিত করার জন্য কোনো বিকল্পই আলোচনার বাইরে রাখা হচ্ছে না।

এই বক্তব্যের তাৎপর্য আরও বেড়েছে গত এপ্রিলের একটি ঘটনার কারণে। সে সময় পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইল ফাঁস হয়, যেখানে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পর্যালোচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। নতুন করে মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য সামনে আসায় বিষয়টি ব্রিটিশ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

তবে যুক্তরাজ্য সরকার কোনো ধরনের দ্ব্যর্থতার সুযোগ না রেখে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যের নীতি ‘দীর্ঘদিনের এবং অটল’। দ্বীপবাসীদের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে থাকবে বলেও তিনি জানান।

লন্ডন একই সঙ্গে ন্যাটোতে যুক্তরাজ্যের ভূমিকার বিষয়টিও সামনে এনেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপজুড়ে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটি ন্যাটোর তৃতীয় বৃহত্তম নগদ প্রতিরক্ষা ব্যয়কারী এবং ইউরোপের একমাত্র ন্যাটো সদস্য, যারা তাদের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা জোটের প্রতিরক্ষায় ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফকল্যান্ড দ্বীপবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে যুক্তরাজ্য তাদের অবস্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছে। ব্রিটিশ সরকারের আগের বক্তব্যেও বলা হয়েছে, দ্বীপবাসীরা বারবার ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

২০১৩ সালের গণভোটের ফলও ব্রিটিশ অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ওই ভোটে ১ হাজার ৫১৭ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৫১৩ জন—অর্থাৎ ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ—ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে বর্তমান মর্যাদা বজায় রাখার পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র তিনটি। ভোটার উপস্থিতিও ছিল ৯২ শতাংশ।

এই ফলকে যুক্তরাজ্য দ্বীপবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের সুস্পষ্ট প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করে। ব্রিটিশ সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, দ্বীপবাসীরা নিজেরা চাইলে তবেই সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সম্ভাব্য পরিবর্তন পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে।

উল্লেখ্য চলতি মাসের শুরুতেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ফকল্যান্ড নিয়ে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। এর জেরে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২ লাখ ৩৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে জেল সংকট মোকাবিলায় আগাম মুক্তিঃ গুরুতর অপরাধীরা থাকছেন কারাগারেই

নিজ দেশের বিমানবন্দরেই চরম হয়রানির শিকার ব্রিটিশ সাংবাদিক

ব্রিটিশ স্বাস্থ্য সচিব সাজিদ জাভিদের কোভিড পজিটিভ

অনলাইন ডেস্ক