মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো ইরান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফোনে কথা বলেছেন। এই যোগাযোগকে দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির কাছ থেকে ফোন কল গ্রহণ করেন।
আলোচনায় তারা চলমান পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেন এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। যদিও ঠিক কখন এই ফোনালাপ হয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়নি, তবে এটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পরদিন প্রকাশ করা হয়।
এই ফোনালাপকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এর আগে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছিল। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন নেতৃত্বকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে উৎসাহ দিয়েছিলেন।
তিনি মনে করতেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে দেওয়ার একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশের ওপর ড্রোন হামলা চালায়, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলে।
ইরান ও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। দুই দেশই প্রায়শই একে অপরকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য দায়ী করে থাকে।
ইয়েমেন, লেবানন ও সিরিয়ার মতো বিভিন্ন সংঘাতে তারা বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিয়ে এসেছে, যা তাদের সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তুলেছে।
সর্বশেষ এই ফোনালাপ তাই অনেকের কাছে উত্তেজনা প্রশমনের একটি সম্ভাব্য সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

