ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারগুলোতে যৌন অপরাধে দণ্ডিত বন্দিদের কামভাব বা যৌন তাড়না নিয়ন্ত্রণে ওষুধ দেওয়ার পাইলট প্রকল্প বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করছে যুক্তরাজ্য সরকার। বর্তমানে ১০টি কারাগারে চালু থাকা কর্মসূচি বাড়িয়ে ২০টি কারাগারে নেওয়া হচ্ছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে এটি দেশব্যাপী চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো পুনরায় যৌন অপরাধের ঝুঁকি কমানো এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বন্দিদের চিকিৎসাভিত্তিক পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা।
এই কর্মসূচি মূলত সেইসব বন্দিদের জন্য, যারা তীব্র ও সমস্যাজনক যৌন উত্তেজনা বা যৌন আচরণ-সংক্রান্ত মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারে প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ জন বন্দি এই চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত হতে পারেন। তবে প্রত্যেক বন্দির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চিকিৎসার অংশ হিসেবে দুটি ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। একটি হলো এসএসআরআই জাতীয় অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, যা কিছু ক্ষেত্রে যৌন আকাঙ্ক্ষা কমাতে সহায়তা করে। অন্যটি হলো অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন ওষুধ, যা শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে যৌন তাড়না নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। চিকিৎসা শুধু ওষুধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক থেরাপি, আচরণ পরিবর্তনমূলক কর্মসূচি এবং পুনর্বাসন সহায়তাও যুক্ত থাকবে।
বর্তমানে এই চিকিৎসা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাভিত্তিক। কোনো বন্দিকে জোর করে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। তবে সরকার ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক করা যায় কি না, সে বিষয়ে আইনগত ও নীতিগত পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরকারের যুক্তি, শুধু কারাদণ্ড দিয়ে যৌন অপরাধের পুনরাবৃত্তি পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই যেসব বন্দির ক্ষেত্রে চিকিৎসাগতভাবে যৌন তাড়না নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, তাদের জন্য এই পদ্ধতি সমাজের নিরাপত্তা বাড়াতে কার্যকর হতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবে কয়েকটি দেশেও একই ধরনের চিকিৎসা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে এই কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও চিকিৎসা নীতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভবিষ্যতে এটি বাধ্যতামূলক করা হলে ব্যক্তির চিকিৎসার সম্মতি এবং মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন উঠতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, স্বেচ্ছাভিত্তিক চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা যৌন অপরাধ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও সহায়ক হতে পারে।
সূত্রঃ দ্য টাইমস
এম.কে

