মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে ভিন্নমত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী অবরোধের ঘোষণা দিলেও এতে যুক্তরাজ্য অংশ নেবে না বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
রবিবার দেওয়া বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর সহায়তায় খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালী অবরোধ শুরু করবে। তিনি বলেন, প্রণালীটি “পরিষ্কার করতে বেশি সময় লাগবে না” এবং “অনেক দেশ” এতে যুক্ত হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে মাইন অপসারণকারী জাহাজ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ভিন্ন। লন্ডনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, তারা কোনো ধরনের অবরোধ কার্যক্রমে অংশ নিতে আগ্রহী নয়। যদিও অতীতে তারা হরমুজ প্রণালীকে নিরাপদ রাখতে সীমিত ভূমিকা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিল, বিশেষ করে মাইন শনাক্ত ও অপসারণ কার্যক্রমে।
ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের মাইন শনাক্তকারী প্রযুক্তি ও ড্রোন প্রতিরোধ সক্ষমতা মোতায়েন রয়েছে। তবে ব্রিটিশ প্রশাসনিক কেন্দ্র হোয়াইটহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সরাসরি সামরিকভাবে যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে এবং বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাইন অপসারণ কার্যক্রমে সহায়তা করা এবং পূর্ণাঙ্গ অবরোধে অংশ নেওয়া—এই দুটি বিষয় সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুক্তরাজ্য এই পার্থক্যটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে এবং আপাতত সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চাইছে না।
হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হওয়ায়, সেখানে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ও মিত্রদের অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

