24.2 C
London
August 23, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

রাশিয়া-ন্যাটো সংঘাত কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিচ্ছে?

ইউরোপে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাশিয়া ও পশ্চিমা জোটের মধ্যে বাড়তে থাকা পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই বাল্টিক অঞ্চলকে ঘিরে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ইউরোপে আরেকটি যুদ্ধফ্রন্ট খুলে যেতে পারে।

সম্প্রতি মস্কো অভিযোগ করে, এস্তোনিয়া, লাতভিয়া এবং লিথুয়ানিয়া ইউক্রেনকে সহায়তা দিয়ে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেলবন্দর ও সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে। যদিও বাল্টিক দেশগুলো এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগকে ওয়াশিংটন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তার ভাষায়, ছোট কোনো সামরিক উত্তেজনাও বড় আকারের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক রয়েছে।

এদিকে নর্ডিক ও বাল্টিক জোটভুক্ত আটটি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে রাশিয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এই জোটে রয়েছে সুইডেন, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, লাতভিয়া ও লিথুয়ানিয়া। তাদের দাবি, ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি কখনোই দেওয়া হয়নি।

জোটভুক্ত দেশগুলোর অভিযোগ, ভ্লাদিমির পুতিন আন্তর্জাতিক মনোযোগ অন্যদিকে সরাতে এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতেই এমন অভিযোগ করছেন। তারা রাশিয়াকে অবিলম্বে ‘ভুয়া তথ্য প্রচার’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

এর মধ্যেই ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে একাধিক কৌশলগত স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় নৌবন্দর নোভোরোসিস্কে অবস্থিত গ্রুশোভায়া তেল টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই স্থাপনাটি ককেশাস অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রায় ১২ লাখ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য সংরক্ষণ করা যায়।

একই সঙ্গে নোভোরোসিস্ক উপকূলের শেশারিস তেল লোডিং টার্মিনাল থেকেও ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। এছাড়া ইউক্রেন দীর্ঘপাল্লার হামলায় উরাল অঞ্চলের পার্ম শহরে অবস্থিত মেটাফ্র্যাক্স রাসায়নিক কারখানায় আঘাত হানে। এই কারখানায় বিস্ফোরক ও অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান উৎপাদন করা হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এখন ধীরে ধীরে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে বাল্টিক অঞ্চলকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে তা ন্যাটো ও রাশিয়ার সরাসরি মুখোমুখি অবস্থানের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সূত্রঃ মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

প্রবাসী বেকারদের জন্য সুখবর দিলো আমিরাত

রমজানে আল আকসায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেবে ইসরায়েল

পুতিনের পতন হবে এবং আমি ফিরে আসবঃ ইউলিয়া নাভালনায়া