TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

রাশিয়া সীমান্তে বিপুল সেনা ও বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করল পোল্যান্ড

রাশিয়ার সঙ্গে সীমান্তে বড় ধরনের উসকানি ও নাশকতার আশঙ্কায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, সামরিক বাহিনী, সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট এবং সীমান্তরক্ষী মোতায়েন করেছে পোল্যান্ড। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, রাশিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্ভাব্য হামলা ও সশস্ত্র ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় এই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে টাস্ক বলেন, পোল্যান্ড ও মিত্র দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরেই নভেম্বরের প্রথম দিনগুলোতে রাশিয়ার সঙ্গে সীমান্তে নাশকতা কিংবা আরও গুরুতর উসকানিমূলক ঘটনার আশঙ্কার কথা জানিয়ে আসছিল। বিশেষ করে সশস্ত্র ব্যক্তিদের পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে প্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।

তিনি জানান, নভেম্বরের প্রথমার্ধে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আরও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য, সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সোমবার থেকেই এই নিরাপত্তা অভিযান শুরু হয়। পোল্যান্ডের জাতীয় পুলিশপ্রধান মারেক বোরোন দেশটির সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য সীমান্ত এলাকায় পৌঁছেছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট, সামরিক বাহিনী, সীমান্তরক্ষী এবং বিশেষ নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা।

মঙ্গলবার মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলের সঙ্গে সীমান্তে সন্দেহজনক গতিবিধির খবর পান প্রধানমন্ত্রী টাস্ক। সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাকে এ বিষয়ে অবহিত করে। সেখানে টর্চলাইট হাতে কয়েকজন ব্যক্তিকে চলাচল করতে দেখা যায় বলে জানান তিনি।

টাস্ক বলেন, পোলিশ বাহিনী সম্ভাব্য উসকানিমূলক তৎপরতা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে এটি পরিকল্পিত উসকানি ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে স্বীকার করেন তিনি।

নাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ পোল্যান্ড। উত্তরে রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চল এবং পূর্বে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের সঙ্গে দেশটির সীমান্ত রয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করে আসছে ওয়ারশ।

ইউক্রেনে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক ও মানবিক সহায়তা পাঠানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পোল্যান্ড। এ কারণে রাশিয়ার সম্ভাব্য নাশকতা বা হাইব্রিড হামলার ঝুঁকি নিয়ে দেশটির উদ্বেগ দীর্ঘদিনের।

প্রধানমন্ত্রী টাস্ক কয়েক মাস ধরেই সতর্ক করে আসছেন, রাশিয়া ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের হাইব্রিড হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যাটো, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো, এমনকি সিআইএর কাছ থেকেও পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে টাস্ক বলেন, রাশিয়ার উত্তেজনা বৃদ্ধির তৎপরতা শুধু এই একটি ঘটনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে আশঙ্কা রয়েছে। তবে কালিনিনগ্রাদ সীমান্তের সাম্প্রতিক ঘটনাকে সরাসরি রাশিয়ার পরিকল্পিত হামলা হিসেবে নিশ্চিত করেননি তিনি।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এমকে

আরো পড়ুন

অভিবাসীদের সাথে অপমানজনক আচরণের দায়ে ইতালিকে ইইউ আদালতের নিন্দা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দণ্ড ‘নিঃশর্ত মুক্তি’

২০২০ সালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর প্যারিস

অনলাইন ডেস্ক