11.4 C
London
September 9, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে গভীর রাতে আগুনঃ দূর্ঘটনা নাকি নাশকতা তা নিয়ে জল্পনা

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পাওনিয়ার বেজে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে কম্পিউটার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৪২ ঘণ্টা পরও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের পর পাওনিয়ার বেজসহ আশপাশের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে প্রকল্পের কম্পিউটারভিত্তিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।

মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্তও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি সচল হয়নি। অর্থাৎ অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৪২ ঘণ্টা পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

আগুনে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের পাশাপাশি ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্পের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে প্রকল্পের মূল পারমাণবিক স্থাপনা বা রিঅ্যাক্টর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাই ঘটনাটিকে সরাসরি পারমাণবিক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়সূচি নিয়েও এরই মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের ১ নম্বর ইউনিটে পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভালভের জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সমস্যা সমাধানে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসার কথাও জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ভালভের সমস্যা সমাধানের পর রিঅ্যাক্টরে ফিশন প্রক্রিয়া শুরু, পরীক্ষামূলক উৎপাদন এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ পর্যন্ত আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে চলতি বছর প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাও কম বলে পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তাদের ধারণা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটে মোট প্রায় ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। দেশে যখন গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, তখন রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে ঘাটতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে এই অবস্থায় প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড, এরপর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং একই সময়ে প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে রূপপুর প্রকল্পের সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে নজরদারি ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের গুরুত্ব সামনে এসেছে।

তবে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ কী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত এবং বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আর কত সময় লাগবে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য এখনো প্রয়োজন। প্রকল্পটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর একটি হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে দ্রুত ও পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ জনস্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রঃ যুগান্তর

এম.কে

আরো পড়ুন

৬ বছর পর ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ৯ সেপ্টেম্বর

রমজানে স্কুল বন্ধঃ হাইকোর্ট

নাছির থেকে সাজ্জাদঃ জামিন আর খুনের এক ভয়ংকর চক্র