TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে চীনা দূতাবাসের গোপন কক্ষঃ নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্ক

লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে প্রস্তাবিত চীনের নতুন ‘সুপার-এম্বেসি’ নির্মাণ পরিকল্পনাকে ঘিরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির একাধিক এমপি প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে এই প্রকল্প অনুমোদন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, চীনের আগ্রাসী ও ভীতিপ্রদর্শনমূলক আচরণের প্রেক্ষাপটে এমন একটি দূতাবাস অনুমোদন দেওয়া যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে।

দ্য টেলিগ্রাফের অনুসন্ধানে প্রকাশ পাওয়া অপ্রকাশিত নকশা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত দূতাবাসের নিচে একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে একটি বড় গোপন কক্ষ থাকবে, যা সিটি অব লন্ডন ও ক্যানারি হোয়ার্ফের মধ্যে আর্থিক তথ্য বহনকারী গুরুত্বপূর্ণ ফাইবার-অপটিক কেবলের একেবারে পাশে অবস্থিত হবে। ওই কক্ষে তাপ নিষ্কাশনের বিশেষ ব্যবস্থা থাকায় উন্নত কম্পিউটার বা নজরদারি প্রযুক্তি স্থাপনের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।

সংসদে উত্থাপিত জরুরি প্রশ্নে লেবার এমপিরা একের পর এক এই প্রকল্পের বিরোধিতা করেন। জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল কমিটির সদস্য সারা চ্যাম্পিয়ন বলেন, সরকারি সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা সবাই এই মেগা-এম্বেসি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তার দাবি, প্রতিটি নিরাপত্তা ব্রিফিংয়েই চীনকে যুক্তরাজ্যের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, ফলে এই দূতাবাস কোনোভাবেই অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়।

অন্যান্য এমপিরাও যুক্তরাজ্যে বসবাসরত হংকংবাসী, উইঘুর ও চীনা ভিন্নমতাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই দূতাবাস আরও ভয়ভীতি, নজরদারি ও চাপ সৃষ্টির কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। লিডসের এক এমপি সংসদে জানান, তার এক ভোটারের মাথার ওপর চীন বিপুল অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করেছে, ফলে নতুন দূতাবাসে গোপন কক্ষ থাকার বিষয়টি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

যে এলাকায় দূতাবাসটি নির্মাণের কথা, সেই এলাকার এমপিরাও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রস্তাবিত দূতাবাসটি সাবেক রয়্যাল মিন্টের ২২ হাজার বর্গমিটার জায়গা জুড়ে হবে এবং এটি ইউরোপে চীনের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক মিশন হিসেবে বিবেচিত হবে। নকশায় জরুরি জেনারেটর, যোগাযোগ কেবল, লিফট শ্যাফট এবং দীর্ঘ সময় ভূগর্ভে অবস্থানের উপযোগী অবকাঠামোর উল্লেখ রয়েছে।

এই ইস্যুতে সরকারকেও সংসদে অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। নিরাপত্তা মন্ত্রীর পরিবর্তে আবাসনমন্ত্রীকে প্রশ্নের জবাব দিতে পাঠানোয় স্পিকার স্যার লিন্ডসে হোয়েল অসন্তোষ প্রকাশ করেন। যদিও সরকার বলছে, পরিকল্পনাটি এখনো অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে এবং সব নিরাপত্তা ও পরিকল্পনাগত বিষয় বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে সরকারের ভেতর ও বাইরে সমালোচকরা মনে করছেন, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের যুক্তি দেখিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি উপেক্ষা করা হলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে চীনের ‘সুপার-এম্বেসি’ শুধু একটি কূটনৈতিক স্থাপনা নয়, বরং যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা ও সার্বভৌম সিদ্ধান্তের একটি বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

অভিবাসীদের আশ্রয় ব্যয় নিয়ে রিভসের কড়া পরিকল্পনা, সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা

বাকিংহামে নয় বালমোরালে: প্রাচীন প্রথা ভেঙে নির্বাচিত হবেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের সারেতে কলের পানি না খাওয়ার নির্দেশ জারি করেছে থেমস ওয়াটার