TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

লন্ডনে প্রেমিকের হামলাঃ ট্র‍্যাম্পের ছেলের ফোনেই রক্ষা পান তরুণী—আদালতে বিস্ফোরক সাক্ষ্য

লন্ডনের স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে চলমান এক মামলায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ব্যারন ট্রাম্প একটি ফেসটাইম কলের মাধ্যমে এক তরুণীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে।

 

ভুক্তভোগী নারী, যার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, আদালতে জানান—গত বছরের জানুয়ারিতে তিনি ব্যারন ট্রাম্পকে ফোন করেন, ঠিক সেই মুহূর্তে তার প্রাক্তন প্রেমিক মাতভেই রুমিয়ানৎসেভ (২২) তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করছিলেন। ট্রাম্পের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব নিয়ে ঈর্ষা থেকেই ওই হামলা শুরু হয় বলে আদালতে দাবি করা হয়।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে জানা যায়, ১৯ বছর বয়সী ব্যারন ট্রাম্প ফেসটাইম কলে মারধরের দৃশ্য ও চিৎকার শুনেই যুক্তরাজ্যের জরুরি সেবায় যোগাযোগ করেন। তিনি অপারেটরকে জানান, এক তরুণীকে মারধর করা হচ্ছে এবং এটি একটি গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি। তিনি ভুক্তভোগীর ঠিকানাও পুলিশকে সরবরাহ করেন।

পরে আদালতে পুলিশ বডিক্যাম ফুটেজ উপস্থাপন করা হয়। সেখানে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ কর্মকর্তারা ভুক্তভোগীকে জানান—যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেউ একজন এই হামলার বিষয়ে তাদের অবহিত করেছেন। ওই নারী তখন বলেন, তিনি ব্যারন ট্রাম্পের বন্ধু এবং হামলার সময় ফেসটাইমে তার সঙ্গে কথা বলছিলেন। এক পুলিশ কর্মকর্তাকে সহকর্মীর উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, তথ্যদাতা সম্ভবত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে।

পুলিশের অনুরোধে ভুক্তভোগী নারী তখন ব্যারন ট্রাম্পকে আবার ফোন করেন। সেই কথোপকথনে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, তিনিই পুলিশে যোগাযোগ করেছিলেন এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে ভেবে হামলাকারীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেননি।

আদালতে নিজের বক্তব্যে ব্যারন ট্রাম্প বলেন, ফোন ধরেই তিনি ছাদ দেখা ও চিৎকার শুনতে পান। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ভুক্তভোগীকে কাঁদতে এবং মারধরের শিকার হতে দেখেন। তার ভাষায়, পুলিশে ফোন করাই ছিল তার পক্ষে সবচেয়ে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত।

জেরা চলাকালে ভুক্তভোগী নারী স্পষ্টভাবে বলেন, ব্যারন ট্রাম্পের ওই ফোনকল তার জীবন বাঁচাতে সহায়ক ছিল। তার ভাষায়, “সেই মুহূর্তে ওই কলটি আমার কাছে ঈশ্বরের পক্ষ থেকে পাওয়া এক সংকেতের মতো ছিল।”

আদালতে আরও জানানো হয়, জানুয়ারির ওই ঘটনার সময় রুমিয়ানৎসেভ ভুক্তভোগী নারীকে শ্বাসরোধসহ গুরুতর শারীরিক নির্যাতন করেন। পরবর্তীতে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন—রুমিয়ানৎসেভ তাকে দু’বার ধর্ষণ করেছেন, যার একটি ঘটেছে পুলিশের হস্তক্ষেপের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে।

তবে অভিযুক্ত মাতভেই রুমিয়ানৎসেভ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে শারীরিক হামলা, শ্বাসরোধ, ধর্ষণের দুটি অভিযোগ, শারীরিক ক্ষতিসাধন (ABH) এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ।

মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং এই ঘটনায় ব্যারন ট্রাম্পের ভূমিকা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

জোরপূর্বক দখল নয়, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সুর নরম ট্রাম্পের

বিনামূল্যে ক্যান্সারের ভ্যাকসিন দেবে রাশিয়া

আফগানিস্তানের ঘোষণাঃ পাকিস্তানের সঙ্গে আর কোনো ক্রিকেট নয়