লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের নতুন ক্ষমতা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। ৩ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই ক্ষমতাবলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স আবেদন স্থানীয় কাউন্সিল প্রত্যাখ্যান করলে তিনি সেই সিদ্ধান্ত নিজের হাতে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন। তবে নতুন এই ক্ষমতা নিয়ে ওয়েস্টমিনস্টারসহ একাধিক স্থানীয় কাউন্সিলের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ওয়েস্টমিনস্টার সিটি কাউন্সিলের উপনেতা টিম বার্নস অভিযোগ করেছেন, মেয়রের এই উদ্যোগ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে নিজের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা। তিনি একে ‘ক্ষমতা দখলের’ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সাদিক খান বলেছেন, স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর কাছ থেকে গণতান্ত্রিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া তার উদ্দেশ্য নয়। বরং লন্ডনের অর্থনীতি ও নাইটলাইফের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে অযৌক্তিকভাবে লাইসেন্স থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই নতুন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
মেয়র জানিয়েছেন, তিনি ওয়েস্টমিনস্টার সিটি কাউন্সিলসহ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চান। তবে কোনো কাউন্সিল ভালোভাবে পরিচালিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স আবেদনে সহযোগিতা না করলে তিনি নিজেই বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স আবেদন ফি-ব্যান্ড ডি ও ই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, সম্পত্তির অ-আবাসিক করযোগ্য মূল্য ৮৭ হাজার ১ পাউন্ড বা তার বেশি এবং যাদের লাইসেন্সপ্রাপ্ত কার্যক্রম রাত ১১টার পর চলে, সেগুলোর সিদ্ধান্ত নিজের হাতে নিতে পারবেন মেয়র। একই সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোকে তাদের লাইসেন্সিং নীতিমালা পর্যালোচনার সময় মেয়রের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।
ওয়েস্টমিনস্টার সিটি কাউন্সিলের দাবি, তাদের এলাকার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটিই নতুন নিয়মের আওতায় পড়তে পারে। কাউন্সিলের নেতা পল সোয়াডল বলেছেন, ওয়েস্টমিনস্টার ইতোমধ্যে ৯৮ শতাংশ লাইসেন্স আবেদন অনুমোদন করে। তাই মেয়রের নতুন ক্ষমতা রাতের অর্থনীতির সমস্যাগুলোর সমাধান করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
লন্ডনের বিভিন্ন বরো কাউন্সিলের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন লন্ডন কাউন্সিলসও নতুন ক্ষমতার পরিধি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংগঠনটির নির্বাহী সদস্য ও ক্রয়ডনের মেয়র জেসন পেরির মতে, কোন ব্যবসাকে ‘কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তার সংজ্ঞা অত্যন্ত বিস্তৃত।
৩ নভেম্বর ওয়েস্ট এন্ডের ব্লু নোটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন ক্ষমতা কার্যকরের বিষয়টি তুলে ধরেন সাদিক খান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আবাসনবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার, লন্ডন অ্যাসেম্বলির সদস্য জেমস স্মল-এডওয়ার্ডস এবং নাইটলাইফ খাতের প্রতিনিধিরা।
সাদিক খান বলেন, লন্ডনের নাইটলাইফ খাত বছরে ২১ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থনীতিতে অবদান রাখে এবং কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে। আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বিনোদনের গন্তব্য হিসেবে লন্ডনের আকর্ষণ ধরে রাখতেও এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তার প্রত্যাশা, কাউন্সিলগুলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা করবে এবং নতুন ক্ষমতা খুব কমই প্রয়োগ করতে হবে।
অন্যদিকে, ইউকে হসপিটালিটির প্রধান নির্বাহী কেট নিকলস বলেছেন, মেয়রের নতুন ক্ষমতা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিদ্যমান ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে না। পরিকল্পনাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের মতোই এটি নির্দিষ্ট কিছু লাইসেন্স আবেদন পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি করছে। তার মতে, ওয়েস্টমিনস্টারের মতো যেসব কাউন্সিলের লাইসেন্সিং নীতি কঠোর, তাদের স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত সমাধানে আসা উচিত।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এমকে

