17.7 C
London
October 13, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

শরণার্থীদের বহিষ্কার ও ৬ দেশের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা—রিফর্ম ইউকের ৭ দফা পরিকল্পনা

ব্রিটেনের অভিবাসন ও আশ্রয়ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ। ক্ষমতায় এলে পাঁচ বছরের জন্য আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা স্থগিত, চলমান আবেদন বাতিল, প্রায় ৯০ হাজার আপিলের শুনানি বন্ধ এবং আগে থেকেই শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিদের মামলা পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিতে চায় দলটি। সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে সাত দফা পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

পাঁচ বছরের জন্য আশ্রয় দেওয়া বন্ধ: রিফর্ম ইউকে ক্ষমতায় এলে পাঁচ বছরের জন্য আশ্রয়ব্যবস্থা স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছে। এ সময়ে নতুন করে কাউকে আশ্রয় না দেওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন সব আবেদন বাতিল করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

আশ্রয় ট্রাইব্যুনাল ও বৈধ শরণার্থী প্রবেশপথ বিলুপ্ত: আশ্রয়সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল, বৈধ শরণার্থী প্রবেশপথ এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি বাতিল করতে চায় দলটি। রিফর্ম ইউকের দাবি, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে শরণার্থী গ্রহণের পক্ষে পর্যাপ্ত জনসমর্থন নেই।

৯০ হাজার আপিলের শুনানি বন্ধের পরিকল্পনা: ব্রিটেনে প্রায় ৯০ হাজার আশ্রয় ও মানবিক সুরক্ষাসংক্রান্ত আপিলের শুনানি বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে রিফর্ম ইউকে। এসব মামলার নিষ্পত্তি না করেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুনর্বাসন কর্মসূচি বন্ধ ও আগে আসা শরণার্থীদের বহিষ্কার: শাবানা মাহমুদ পুনরায় চালুর কথা বলেছেন, এমন পুনর্বাসন কর্মসূচিও বন্ধ করতে চায় দলটি। এসব কর্মসূচির আওতায় প্রত্যাশিত শরণার্থীদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ফিলিস্তিনি এবং আফগানিস্তানের নারী ও মেয়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু নতুন করে শরণার্থী গ্রহণ বন্ধ নয়, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ব্রিটেনে আসা ব্যক্তিদেরও বহিষ্কারের প্রস্তাব রয়েছে।

গত পাঁচ বছরে আশ্রয় পাওয়া ব্যক্তিদের মামলা পুনর্বিবেচনা: গত পাঁচ বছরে ব্রিটেনে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিদের মামলাও নতুন করে পর্যালোচনা করতে চায় রিফর্ম ইউকে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এই পর্যালোচনায় কারও কারও ব্রিটেনে থাকার অধিকার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ছয় দেশের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা: বহিষ্কৃত নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানানো দেশগুলোর বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু দেশের তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান ও সোমালিয়া। এসব দেশের নাগরিকদের নতুন ভিসা দেওয়া বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

শুল্ক, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিমান চলাচলে বাধা: ভিসা নিষেধাজ্ঞায় কাজ না হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বিমান চলাচল বন্ধের মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করতে চায় রিফর্ম ইউকে। বিদেশি সরকারগুলোকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করাই এ পরিকল্পনার উদ্দেশ্য।

রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, ব্রিটেন বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা সংকটের মুখে রয়েছে এবং সরকারের প্রথম দায়িত্ব নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া। তিনি আরও বলেন, রিফর্ম সরকার সব সময় ব্রিটিশ জনগণকে অগ্রাধিকার দেবে এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখবে।

লেবার পার্টির চেয়ার ব্রিজেট ফিলিপসন পরিকল্পনাগুলোকে ‘হতাশা ও দুর্বলতার স্পষ্ট লক্ষণ’ বলে সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা পরিত্যাগ করা ব্রিটেনের প্রচলিত মূল্যবোধের পরিপন্থী হবে।

অন্যদিকে, কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপের দাবি, ফারাজের প্রস্তাবগুলোর বড় অংশ তাদের দলের বিদ্যমান নীতির সঙ্গে মিলে যায়। তিনি বলেন, কনজারভেটিভদের ‘বর্ডার্স’ পরিকল্পনায় ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ থেকে বেরিয়ে আসা এবং অবৈধ অভিবাসীদের ব্রিটেনে পৌঁছানোর এক সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

উল্লেখ্য, রিফর্ম ইউকের সাত দফা পরিকল্পনা এখনো রাজনৈতিক প্রস্তাব, ব্রিটেনের বর্তমান আইন নয়। ক্ষমতায় এলে এসব পদক্ষেপ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া ও সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স আশ্রয়প্রার্থীদের বিনিময় নিয়ে আলোচনা

যুক্তরাজ্যে নতুন নীতিমালা ভেঙে বিপাকে লিডল ও আইসল্যান্ডঃ শিশু স্থূলতা রোধে কঠোর অবস্থান

যুক্তরাজ্যের আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তিতে হোম অফিসের ভয়াবহ ব্যর্থতা নিয়ে বিস্ফোরক প্রতিবেদন